সিকদার গ্রুপকে অবৈধ সুবিধা দিচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক

বেসরকারি খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বিতর্কিত সিকদার গ্রুপকে অবৈধ সুবিধা দিয়েই যাচ্ছে। ব্যাংকটি থেকে গ্রুপটির ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ৭৫৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে। বকেয়া কিস্তি পরিশোধ না করলেও খেলাপি দেখায়নি ইসলামী ধারার এই ব্যাংকটি।

সিকদার গ্রুপের খেলাপি হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- হক এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আর এন্ড আর হোল্ডিংস, দি রিভার, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা কেরানিগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট এবং মেসার্স মমতাজুল হক।

সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২৪১ তম সভায় সিকদার গ্রুপের এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরে মধ্যে ঋণের পুরো অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু অনুমোদিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরৎ না দিলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাপি দেখায়নি ব্যাংকটি। উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিকে তোয়াক্কা না করেই এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ পরিশোধে চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে ব্যাংকের পর্ষদ।

এবিষয়ে জানতে অর্থসূচকের পক্ষ থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী’কে ফোন দেওয়া হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেন নি। এছাড়া ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

জানা যায়, ২০১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বড় ঋণখেলাপিদের বৃহৎ ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দিয়ে একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সুবিধার আওতায় দেশের বড় ১১টি শিল্প গ্রুপের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নীতিমালায় বলা হয়, পুনর্গঠিত ঋণ আর পুনঃতফশিল করা যাবে না। সুবিধা নেয়া কোনো প্রতিষ্ঠান সময়মতো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সব ধরনের সুবিধা বাতিল হবে। টানা দুটি কিস্তি না দিতে পারলে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া টানা দুটি কিস্তি খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমুদয় অর্থ আদায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দেউলিয়া আইনে মামলা করতে পারবে। তবে সুবিধা পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান বেশ আগে খেলাপি হলেও দেউলিয়া আইনে মামলা করার খবর পাওয়া যায়নি।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন মজুমদার অর্থসূচককে বলেন, যেসব ব্যাংক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে পারলেই যথেষ্ট হতো। রাজনৈতিক প্রভাবজনিত কারণে আইনের প্রয়োগই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ব্যাংক ঋণ কার্যক্রমে বিদ্যমান রাজনৈতিক দুষ্টচক্রকে ভেঙে চুরমার করে দিতে হবে। আর এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার দরকার।

ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দিয়েও বিভিন্ন গ্রুপের কাছ থেকে খেলাপি ঋণের তেমন কোনো অর্থ আদায় করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। উল্টো কয়েকটি গ্রুপ নতুন করে আরও ঋণ নিয়েছে। এছাড়া অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলেও ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সুবিধা করে দিচ্ছে। খেলাপিযোগ্য ঋণও খেলাপি করছে না ব্যাংক।

বেসরকারি খাতের ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে। অর্থ পরিশোধ না করেও প্রতিষ্ঠানটিকে সুবিধা এবং ঋণ নিয়মিত দেখানোর সুযোগ করে দিচ্ছে ব্যাংকটি, যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

অর্থসূচক/ মো. সুলাইমান

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.