আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি কমানোর পরিকল্পনা চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এরফলে প্রতি মাসে এসব প্রতিষ্ঠানে গড়ে খেলাপি ঋণ বাড়ছে ৬৯৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রভিশন সংরক্ষণেও ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ডিসেম্বরের মধ্যে কমানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আগামী সাত দিনের মধ্যে চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইওর কাছে এসব পরিকল্পনা দিতে বলা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এর পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। প্রতি মাসে গড়ে খেলাপি বাড়ছে ৬৯৮ কোটি টাকা।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডিদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে তখন বলা হয়, দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টিতে খেলাপি ঋণ ৩২ শতাংশের বেশি। এ পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ। এর মধ্যে রয়েছে, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

এর মধ্যে প্রথম চারটি প্রতিষ্ঠান আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের দখলে ছিল। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ টাকা পি কে হালদার তাঁর নামে-বেনামে তুলে নিয়েছেন, যা এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে।

অর্থসূচক/এমএইচ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.