রিয়াদ খেলার মতো যোগ্যতা অবশ্যই রাখে: সুজন

কয়েকমাস আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল মাহমুদউল্লাহকে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল তরুণদের তৈরি করতেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে জলঘোলাও হয়েছে অনেক। এর কয়েকদিন পর আয়ারল্যান্ডের মাটিতে আবারও ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। যথারীতি এবারও বাংলাদেশ দলে জায়গা হয়নি মাহমুদউল্লাহর। তারপর ঘরের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও খেলা হয়নি মাহমুদউল্লাহর। এবার বাদ পড়েছেন এশিয়া কাপের স্কোয়াড থেকেও। ১৭ সদস্যের দলেও জায়গা হয়নি তার।

তবে এখনই তার ‘শেষ’ দেখছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই পরিচালক সুজন। তিনি বলেন, ‘আমি এটা এখনই বলব না যে ওর শেষটা দেখছি। স্টিল রিয়াদ একজন গুড ফাইটার। আমি মনে করি টিম কম্বিনেশন বা যে কারণেই বাদ পড়ুক না কেন তাতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। এটা সত্যি কথা রিয়াদের বয়সও হচ্ছে। আমি এখনও বিশ্বাস করি রিয়াদ যেভাবে ফাইট করে চেষ্টা করে, তাতে শেষ হয়ে গেছে বলাটা ঠিক হবে না। সুযোগ আবার আসতেও পারে। রিয়াদ এখনও বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার। সুতরাং আমার মনে হয় রিয়াদ এখনও সেই স্পোর্টসম্যান স্পিরিটটাই রাখবে। নিজের সাথে লড়াই করবে এবং নিজের সাথে লড়াই করাটাই সবচেয়ে বড় লড়াই হবে। আমার মনে হয় ইটস টু আর্লি টু সে রিয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অয়ান্স ইউ আর এ ক্রিকেটার, ইউ আর এ ক্রিকেটার। রিয়াদ যতক্ষণ না পর্যন্ত বলছে ও শেষ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পাইপলাইনে সে অবশ্যই থাকবে। রিয়াদ বাংলাদেশে খেলার মতো যোগ্যতা অবশ্যই রাখে।’

নেতৃত্ব ছাড়ার পর টি-টোয়েন্টি দল থেকে জায়গা হারিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা ঘরের মাঠ ইংল্যান্ড সিরিজ, কোথাও জায়গা হয়নি তার। বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল তার ওয়ানডে ক্রিকেটের পারফরম্যান্স নিয়ে। রানে থাকলেও স্ট্রাইক রেটের প্রত্যাশা মেটাতে পারছে না তার ফিনিশার ভূমিকার।

মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে যে বয়সের ছাপ পড়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক সময় বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারের ভরসা ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতেন আবার কখনও ম্যাচ বের করে নিয়ে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসাতেন। অথচ সেই মাহমুদউল্লাহই যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটারদের তালিকায় অবশ্য তিনে রয়েছেন তিনি। এই সময়ে ৩৬ ম্যাচে ৯৭৪ রান করেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। প্রায় চল্লিশ গড়ে রান তোলা মাহমুদউল্লাহর স্ট্রাইক রেট ৭৪.০১। মাহমুদউল্লাহ যেখানে ব্যাটিং করেন সেখানে এমন স্ট্রাইক রেট খানিকটা বেমানানই বটে। দ্রুত রান তুলতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সি এই ব্যাটারকে।

সুজন আরও বলেন, ‘কেউ খারাপ খেলুক, রিয়াদ ওখানে জায়গা করে নিক আমি এটাও বলছি না। আবার এটাও বলতে পারি না কেউ ইনজুরি আক্রান্ত হোক আর রিয়াদ ওখানে খেলুক। রিয়াদের যদি যোগ্যতা থাকে সে অবশ্যই সুযোগ করে নেবে। তবে আমি এটা বলতে চাই, বিশ্বকাপটাই রিয়াদের শেষ কেন। বিশ্বকাপ তো অক্টোবরে শেষ। এরপর তো অনেক ক্রিকেট আছে। রিয়াদ যদি ইয়ো ইয়ো টেস্টে ১৭.৬ পায়, তাহলে তো ও নিজেকে তৈরি করে আরও এক বছর চেষ্টা করতে পারে। কোনো একটা বিশ্বকাপ আসুক, সেটা ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি.. কোনো ক্রিকেটার সুযোগ না পেলে আপনারা বলেন শেষ হয়ে গেল। রিয়াদ তো আর অন্য কিছু করে না, এটাই তার পেশা। আমার মনে হয় ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে। আমার ক্যারিয়ারে আমি দশবার বাদ পড়েছি, দশবার ঢুকে গেছি। এটা ইস্যু বানানোর কিছু নাই। রিয়াদ গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। সুযোগ পায়নি। যে পেয়েছে, সে হয়ত এই মুহূর্তে কাজে লাগবে। ফেয়ার এনাফ.. তবে হ্যাঁ, রিয়াদের অভিজ্ঞতা যেটা আমাদের বর্তমান মিডল অর্ডারে কারো কাছে নেই। আমি মনে করি, অভিজ্ঞতা সবসময় বিবেচনা করা হয়।’

অর্থসূচক/এএইচআর

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.