ইসরাইলের হামলায় ৫ ফিলিস্তিনি নিহত: প্রতিরোধের অঙ্গীকার হামাসের

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবিচ্ছেদ্য প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

সংগঠনটি বলেছে, ইসরাইল বর্বরতা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামকে নস্যাৎ করতে পারবে না। জেনিন শহরে বর্বর অভিযান চালানোর সময় ইসরাইলি সেনারা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার থেকে যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে তা থেকে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তাদের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে- ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধকে তারা কখনো ভেঙে দিতে পারবে না।

গতকাল ইসরাইলের সেনারা অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের সমর্থনে জেনিন শহরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়। এই অভিযানের মধ্যেই ইসরাইলি হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয় যা গত ২ দশকের মধ্যে নজিরবিহীন ঘটনা।

হামাস তাদের বিবৃতিতে বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলি যেকোন আগ্রাসনের জবাব দেয়ার জন্য ভালোভাবেই প্রস্তুত রয়েছে। ইসরাইলি বর্বরতা ফিলিস্তিনিদের দৃঢ়তায় এবং নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষার অঙ্গীকার থেকে পিছু হটাতে পারবে না।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সোমবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে বড় ধরনের হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামীরা তাদেরকে প্রতিহত করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে পাঁচজন মারা গেছেন, তার মধ্যে দুইজন কিশোর। বাকি তিনজনের বয়স কুড়ির কোঠায়। সংঘর্ষে ৯১ জন আহত হয়েছেন। ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় মিডিয়াকে এক বাসিন্দা বলেছেন, তারা বাড়ি থেকে বেরোতে পারেননি। মনে হচ্ছিল, যুদ্ধ চলছে। মাথার উপরে সমানে হেলিকপ্টার উড়ছিল। হেলিকপ্টার থেকে পাশে চাষের জমিতে বোমাও ফেলা হয়।

জাতিসংঘের সেক্রোরি জেনারেল গুতেরেস বলেছেন, ‘ইসরায়েল যেন অধিকৃত ফিলিস্তানি এলাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে। ওখানে বাড়ি বানানো নিয়েই উত্তেজনা বাড়ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’ সূত্র: ডিডাব্লিউ, পার্সটুডে, এপি, এএফপি, রয়টার্স

অর্থসূচক/এএইচআর

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.