ভারতীয় রুপির রেকর্ড পতন

নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (রুপি) মান আরও কমেছে। এদিকে ভারতীয় রুপির রেকর্ড পতনের নেপথ্যে রয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি। এমনটিই দাবি করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার (১ জুলাই) বাজারের শুরুতেই এক ডলারের বিপরীতে রুপির দাম দাঁড়িয়েছে সর্বনিম্নতে। পাঁচ পয়সা বেড়ে এখন এক ডলারের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ১১ রুপি, যা সর্বকালের রেকর্ড।

সেই সঙ্গে দেশটির শেয়ারবাজারেও পতন হয়েছে। বাজার খোলার শুরুতের সেনসেক্স ও নিফটি সূচক পড়ে যায়। সেনসেক্সে ৩৯৯.৬৯ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়ায় সূচক ৫২ হাজার ৬১৯ দশমিক ২৫-এ। আর নিফটি ১৩০.২৫ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে সূচক দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৬৫০-এ।

দ্যা ইউএস ডলার ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০ বছরের মধ্যে ডলারের মান এখন সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এ মুহূর্তে ডলারের সাপেক্ষে অন্যান্য মুদ্রার দামের পতনের বহুবিধ কারণ থাকলেও প্রধান কারণ দুটি।

প্রথমত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে পেট্রোলিয়াম থেকে রকমারি পণ্য- সবকিছুরই দাম বেড়েছে। অর্থাৎ ডলারের অঙ্কে সেই পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমদানির পরিমাণ অন্তত স্বল্প মেয়াদে কমানো অসম্ভব, ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। শুধু বাংলাদেশ-ভারত নয়, সব দেশেরই। তাতে ডলার মূল্যবান হয়েছে, উল্টো দিকে স্থানীয় মুদ্রার দাম পড়েছে।

দ্বিতীয়ত, আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়িয়েছে। পৃথিবীজুড়ে আর্থিক ক্ষেত্রে তুমুল অনিশ্চয়তা চলছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ডলার সে দেশেই জমা রাখা লাভজনক, নিরাপদ। ফলে ভারতের মতো বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেয়ার চল শুরু হয়েছে। অন্যান্য দেশ থেকেও বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। ফলে গোটা এশিয়াতেই স্থানীয় মুদ্রা এখন দুর্বল।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরেই কি বাড়তি চাপে রুপি, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুপির দাম পতনের অন্যতম কারণ ভারতের ইক্যুইটি বাজার থেকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা এফআইআইয়ের মূলধন তুলে নেওয়া এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি।

 

অর্থসূচক/এইচডি/এএইচআর

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...