মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে আবারও নীতি সুদহার বাড়ল

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে আবারও নীতি সুদহার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ সামাল দিতে বাজারে অর্থ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকে নীতি সুদহার নির্ধারিত হবে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। যা বর্তমানে ৫ শতাংশ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ৩০ জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির রেপো সুদহার বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, প্রধান অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

মুদ্রানীতির লক্ষ্য অর্জনে প্রণীত অর্থ ও ঋণ কর্মসূচীর সঠিক বাস্তবায়নের নিমিত্তে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য যেসব নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে রেপো সুদহার অন্যতম। রেপো সুদহার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমনের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতসমূহে ঋণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে নীতিহার হিসেবে বিবেচিত রেপো সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে বিদ্যমান ৫.০০ শতাংশ হতে ৫.৫০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে এই নতুন সুদ হার কার্যকর হবে।

পরে একই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘গত ২৭ জুন মনিটরি পলিসি কমিটির ৫৫তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সুদ হার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৫ ভাগ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে শতকরা ৫ দশমিক ৫০ ভাগে পুননির্ধারণ করা হলো।’ তবে রিভার্স রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।

এর আগে, গত ২৯ মে এই সুদ হার ৪ দশমিক ৭৫ ভাগ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তা আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই হারে ঋণ দিয়ে থাকে, যা ব্যাংকিং খাতে মৌলিক নীতিনির্ধারণী সুদের হার বা রেপো সুদ হার হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২ বছর পর ২২ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এই হার বাড়িয়েছিল। ২০২০ সালে জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পলিসি রেট ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমে আসতে পারে।

রেপো সুদহার হিসেবে পরিচিত নীতি সুদহার বাড়ানোর অর্থ হল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করতে ব্যাংকগুলোকে এখন বাড়তি সুদ দিতে হবে। ব্যাংকগুলো সাধারণত এক থেকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন সুদে টাকা ধার করে থাকে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আর রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে।

 

অর্থসূচক/এএইচআর

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...