কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বহাল রাখার আহ্বান সিএসইর

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) সাদা করার সুযোগ আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের উপর প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানিয়েছেন সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম।

আজ শনিবার (১১ জুন) অনলাইন প্ল্যাটফরমে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে স্টক এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন পরিচালক বক্তব্য রাখেন।

গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন, যা জিডিপির ১৫.২ শতাংশ।

কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য ১০% কর পরিশোধ করে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধা রহিত করা হয়েছে। এই সুবিধা আগামী বছর পর্যন্ত বহাল রাখার জন্য আমরা বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এতে বাজার যেমন শক্তিশালী হব তেমনি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, পাশাপাশি অর্থ পাচারও কমবে।

আসিফ ইব্রাহীম করপোরেট করের হার কমানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির মধ্যে কর হারের ব্যবধান খুবই কম । তাই ভাল কোম্পানি এই বাজারে আসতে আগ্রহী হয়না । কারণ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে নানা ধরণের কমপ্লাইয়ান্স পরিপালন করতে হয়। এতে কোম্পানিগুলোকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে কর হার রেয়াতের প্রকৃত কোন সুবিধা ভোগ করা যায় না ।
অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করহার কমিয়ে তালিকা বহির্ভূত কোম্পানিগুলোর সাথে কর হারের ব্যবধান বাড়ানো হলে কর সুবিধা রেয়াতের জন্য ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবে। এতে একদিকে পুঁজিবাজার সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে লেনদেন বাড়লে তা থেকে বাড়তি কর আদায় হবে।

তাছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জাবাদিহিতা বাড়ে। নানা সংস্থার তদারকিতে থাকতে হয় বিধায় কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমে আসে। তাতে সরকারের কর সংগ্রহ নিশ্চিত হয়।

আসিফ ইব্রাহীম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিসমূহের শেয়ার বিক্রির আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, অর্থায়নের উৎস হিসেবে শেয়ার অফ লোড করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ কোন কর ছাড় থাকতে পারে।

সিএসই প্রেসিডেন্ট তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ আয় থেকে কেটে রাখা করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম অনুসারে প্রতিটি কোম্পানিকে তার আয় এর উপর কর দিতে হয়। এরপর নিট মুনাফা নির্ধারিত হয় । এই মুনাফা থেকে কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করলে এবং এই লভ্যাংশ বিতরণের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে আগ্রিম কর কেটে দিতে হয় । পরবর্তী সময় আবার লভ্যাংশ গ্রহীতার ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্নের সময় তার উপর প্রযোজ্য হারে কর প্রদান করতে হয়। এইভাবে কর প্রদান দ্বৈত কর নীতির আওতায় পরে। এক্ষেত্রে অগ্রিম করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত  লভ্যাংশ আয়ের করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানান।

মিউচুয়াল ফান্ড বা ইউনিট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কর মুক্ত। এই মিউচুয়াল ফান্ড বা ইউনিট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশকে সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত রাখার প্রস্তাব করেন সিএসই প্রেসিডেন্ট। এটি মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রসারে সহায়তা করবে বলে বলে মনে করেন তিনি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...