আগামী বছরেই হলমার্ক কেলেংকারির পরিসমাপ্তি: সোনালী ব্যাংকের এমডি

দেশের ব্যাংকিং খাতের ভিত কাঁপিয়ে দেয়া বৃহৎ কেলেঙ্কারিগুলোর একটি হলমার্ক। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুঁইফোড় গ্রুপটি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নিয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সেই ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর এসে, আশার কথা শোনালেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান। তিনি বলেন, আগামী বছরেই ঘটবে এই ঘটনার পরিসমাপ্তি।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি জানান, হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটির আইনী কাঠামো জোরালো হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা আর কোনো ব্যাংকে ঘটেনি বলেও জানান তিনি।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, মুলধন ঘাটতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ব এ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় এ ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ এখন ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। যার বিপরীতে ঋণ রয়েছে ৬৯ হাজার ১১ কোটি টাকা।

জানান, বড় অংকের এ ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের হার ১৬ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চে ব্যাংকটির ৫৬৮ কোটি পরিচালন মুনাফা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, হালমার্ক পরবর্তী সময়ে সোনালী ব্যাংকের অনেক সমালোচনা হলেও ভালো ভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকটি।

করোনা সোনালী ব্যাংক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যাপক এগিয়েছে। আগামী দিনে গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও বেশি জোর দেয়া হবে বলেও জানান আতাউর রহমান প্রধান।

উল্লেখ্য ২০১২ সালে হলমার্কের ঋণ জালিয়াতির খবর প্রথম প্রকাশিত হয়। হলমার্কসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (হোটেল শেরাটন) শাখা থেকে ঋণের নামে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

আলোচিত এ কেলেঙ্কারির হোতা হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ হলেও এর সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৪ঠা অক্টোবর রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

অর্থসূচক/এমএস

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...