ইউরোপের ২ দেশে গ্যাস বন্ধের হুমকি রাশিয়ার

পোল্যান্ড এবং বুলগেরিয়াতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার গ্যাস কোম্পানি গ্যাসপ্রোম। মঙ্গলবার পোল্যান্ড একটি নোটিস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। গ্যাসপ্রোমের সেই নোটিসে বলা হয়েছে, আজ থেকে পোল্যান্ডে আর গ্যাস পাঠানো হবে না। ইয়ামাল পাইপলাইনের সাহায্যে গ্যাসপ্রোম পোল্যান্ডে গ্যাস পাঠায়। বুধবার থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার গ্যাসের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল পোল্যান্ড। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে ইউরোপের অনেক দেশের মতোই পোল্যান্ডও বিকল্প এনার্জির ব্যবস্তা শুরু করে। মঙ্গলবার গ্যাসপ্রোমের নোটিস আসার পরে পোল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হয়ে গেছে। রাশিয়া গ্যাস না দিলেও অন্য জায়গা থেকে শক্তি উৎপন্ন করা এবং নিয়ে আসার ব্যবস্থা হয়েছে। একদিনের জন্যেও পোল্যান্ডের মানুষ গ্যাসের অভাব বোধ করবেন না। গ্যাস স্টোরেজ ৭৫ শতাংশ পূর্ণ বলেও দাবি করেছে পোল্যান্ডের প্রশাসন।

বুলগেরিয়ার মন্ত্রীও জানিয়েছেন, তাদের কাছে মঙ্গলবার একইরকম নোটিস এসেছে। শর্ত না মানলে বুধবার থেকে সেখানেও গ্যাস সরবারহ বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। বুলগেরিয়া সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। তবে তারাও জানিয়েছে, গত কিছুদিনে বিকল্প ব্যবস্থা তারাও গড়ে তুলেছে।

রাতারাতি কেন গ্যাস দেওয়া বন্ধ করা হচ্ছে নোটিসে স্পষ্ট করে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে রাশিয়ার সংবাদমাদ্যম গ্যাসকমের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার শর্ত না মানার জন্যই একাজ করা হচ্ছে। রাশিয়ার শর্ত ছিল, রুবেলে গ্যাস কিনতে হবে ‘অবন্ধু’ দেশগুলিকে। অবন্ধু অর্থাৎ, যুদ্ধে যারা রাশিয়ার পাশে নেই অথবা সরাসরি ইউক্রেনকে সমর্থন করছে। পোল্যান্ড সরাসরি ইউক্রেনকে সমর্থন করছে। বিপুল পরিমাণ ইউক্রেনের বাস্তুহারা পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন।

বস্তুত, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই রাশিয়া রুবেলে গ্যাস ও তেল কেনার কথা বলেছিল। ইউরোপ তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইউরোপের একাধিক দেশ জানিয়েছিল, গ্যাস ও তেল সংক্রান্ত যে চুক্তি রাশিয়ার সঙ্গে আছে, রুবেলে দাম দিতে গেলে সেই চুক্তি ভঙ্গ হবে। সেই ঘটনার পর এই প্রথম রাশিয়া এ বিষয়ে এত কড়া পদক্ষেপের কথা জানালো।

বুলগেরিয়া জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত নেওয়া তেলের দাম তারা মিটিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন রাশিয়া এমন নোটিস পাঠিয়েছে, তা তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস এবং তেলের দাম নির্ধারিত হয় ডলারে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে রুবেলের দাম ধরে রাখতে চাইছেন পুতিন। সেকারণেই রুবেলকে গ্যাস এবং তেলের দামের সূচকমূল্য হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাজার অবশ্য এখনো তা মেনে নিতে রাজি হয়নি। তারপরেই এত বড় পদক্ষেপের ঘোষণা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স, এপি, এএফপি

অর্থসূচক/এএইচআর

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...