সশস্ত্র দস্যুদের হামলায় নাইজেরিয়ায় নিহত অন্তত ২০০

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র দস্যুদের হামলায় কমপক্ষে ২০০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় গত সোমবার শতাধিক দস্যু নিহত হওয়ার পর পাল্টা হামলা চালিয়ে গ্রামবাসীদের হত্যা করেছে অস্ত্রধারীরা।

অস্ত্রধারী দস্যুরা গ্রামবাসীদের হত্যার পর তাদের মরদেহ ও বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। জামফারার একটি গ্রামের একজন বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেছেন, অস্ত্রধারীরা গ্রামের লোকজনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক ক্রমবর্ধমান সহিংস হামলার মাঝে জামফারায় হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটেছে। এই রাজ্যে স্থানীয় বেশ কয়েকটি অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে দেশটির সরকার।
এর আগে, শুক্রবার প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৩০০ বন্দুকধারী ওই অঞ্চলের কমপক্ষে ৯টি সম্প্রদায়ের ওপর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাণ্ডব চালায় বলে জানানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন দস্যুরা হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করে।

জামফারার অন্য একটি গ্রামের বাসিন্দা ইদি মুসা ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, হামলাকারীরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ২ হাজার গবাদিপশু নিয়ে গেছে। এদিকে, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরা জামফারা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে সরকারি হামলার জবাবে বনাঞ্চলের গোপন আস্তানা ছেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

সরকার অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পিছপা হবে না বলে শনিবার এক বিবৃতিতে অঙ্গীকার করেছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারি। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, নিরীহ মানুষের ওপর সর্বশেষ এই হামলা গণহত্যাকারীদের জঘন্য এক কাজ। সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীগুলো আমাদের সামরিক বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন চাপের মধ্যে রয়েছে।
এর আগে, বুধবার নাইজেরিয়ার সরকার দেশটির দস্যু গোষ্ঠীগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসাবে ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে দেশটিতে এসব গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের সায় দেওয়া হয়।
চলতি সপ্তাহে নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী জানায়, গত বছরের মে মাস থেকে ওই অঞ্চলে অন্তত ৫৩৭ জন সশস্ত্র দস্যু এবং অন্যান্য অপরাধীদের হত্যা এবং ৩৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলজুড়ে স্থানীয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নাইজেরিয়ার হাজার হাজার সৈন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে। সংঘবদ্ধ এই অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রায়ই গ্রামে গ্রামে হানা দিয়ে গবাদিপশু চুরি, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করছে। লুটপাট এবং চুরিতে যারা বাধা দেয় তাদের গুলি চালিয়ে হত্যা করে সংঘবদ্ধ এসব চক্রের সদস্যরা।

 

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...