মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সীমার শর্ত শিথিল

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ তথা শেয়ার কেনার জন্য ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের দেওয়া ঋণ সুবিধার সর্বোচ্চ সীমার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যমান ১:০.৮০ ঋণ সুবিধা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আজ সোমবার (১৫ নভেম্বর) এই বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে বিএসইসি। পরবর্তী আদেশ জারি না করা পর্যন্ত আলোচিত ঋণ-সুবিধা বহাল থাকবে বলে এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনার ফলে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদেরকে ১০০ টাকা নিজস্ব মূলধনের বিপরীতে ৮০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে।

বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক নিম্নমুখী ধারার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মার্জিন ঋণের অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শর্ত অনুসারে, যেসব কোম্পানির শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত (Price Earnings Ratio-PE Ratio) ৪০ বা তার কম, সেসব কোম্পানির শেয়ারেই কেবল মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট বিএসইসির এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স অবস্থান ৮ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত থাকলে ১:০.৮০ হারে মার্জিন ঋণ পাওয়া যাবে।

বাজারের সাম্প্রতিক লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে কিছুটা উপরে উঠার পর পরই পতন শুরু হয়। সূচক ৮ হাজার পয়েন্ট স্পর্শ করলে ঋণসীমা কমে যাওয়ার কারণে বাজারে তারল্য কমে যাবে, তাতে বাজারে শেয়ারের দামও কমতে পারে-এমন ভাবনা থেকে অনেক বিনিয়োগকারী সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করলেই শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে বাজার তার স্বাভাবিক গতি হারাচ্ছে মনে করেই ঋণ সীমার সাথে সূচকের অবস্থানের শর্ত তুলে নিয়েছে বিএসইসি।

উল্লেখ, দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজারে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে নতুন গতির সঞ্চার হয়। বাজারে সূচক ও লেনদেন বাড়তে থাকে। গত বছরের ৩০ জুন ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৩ হাজার ৯৮৯ পয়েন্ট। এর পর থেকে ধারাবাহিক উর্ধগতির মধ্য দিয়ে গত ১০ অক্টোবর এটি ৭ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে উঠে আসে।কিন্তু এর পর থেকেই সূচকের অবস্থা কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এটি কমে ৭ হাজার পয়েন্টের নিচে চলে আসে। এই বৃত্ত ভেঙ্গে সূচক আর সামনে এগুতে পারছে না। মনে করা হচ্ছে, মার্জিন ঋণ সুবিধা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণেই বাজার বারবার থমকে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিএসইসি ঋণ-সুবিধার সর্বোচ্চ সীমার সাথে সূচকের অবস্থানের শর্ত তুলে নিয়েছে।