পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

ফাইনালে উঠতে শেষ ১০ বলে ২০ রান প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে তুলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান আলীর হাতে ক্যাচ তুলে দেন ম্যাথু ওয়েড। তবুও সেই সুযোগ লুফে নিতে পারেননি হাসান। জীবন পেয়ে সেটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি ওয়েড। আফ্রিদির পরের তিন বলে তিন ছক্কা মেরে অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে তুলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। শাদাব খানের দুর্দান্ত স্পেলের পরও মার্কাস স্টইনিস ও ওয়েডের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় অজিরা। তাতে ২০১০ সালের মতো অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে আরও একবার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পাকিস্তানের।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের দেয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। আফ্রিদির দুর্দান্ত সুইংয়ে বলের লাইন মিস করে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন অ্যারন ফিঞ্চ। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন মিচেল মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নার। তারা দুজনে মিলে যোগ করেন ৫১ রান।

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলেই উইকেট তুলে নেন শাদাব। ডানহাতি এই লেগ স্পিনারের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আসিফ আলীর হাতে ক্যাচ তুলে দেন ২২ বলে ২৮ রান করা মার্শ। এদিন অবশ্য থিতু হতে পারেননি স্টিভেন স্মিথ। শাদাবের তুলে মারতে গিয়ে তিনি আউট হয়েছেন মাত্র ৫ রান করে। মার্শ ও স্মিথ ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ওয়ার্নার।

যদিও হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার আগে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। শাদাবের লেংথ বল খানিকটা বাউন্স করলে সেটি বুঝে উঠতে পারেননি ওয়ার্নার। তাতে রিজওয়ান ও শাদাব আবেদন করলে আউট দেন আম্পায়ার। যদিও পরবর্তীতে আলট্রাে এজে দেখা যায় বল ব্যাট ছুঁয়ে যায়নি। তবে ওয়ার্নার রিভিউ না নেয়ায় ৩০ বলে ৪৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরতে হয়।

শেষ দিকে দারুণ এক জুটি গড়ে তুলেন ওয়েড ও স্টইনিস। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা দুজনে মিলে ৪১ বলে ৮১ রান যোগ করেন। ১৯তম ওভারের শেষ তিন বলে তিন ছক্কা মেরে অস্ট্রেলিয়াকে জেতান ওয়েড। ৫ উইকেটের জয়ের দিনে ওয়েড ৪১ এবং স্টইনিস ৪০ রান করে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের হয়ে ৪টি উইকেট নিয়েছেন শাদাব।

এর আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেটে ১৭৬ রান তোলে পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতেই দুই ইনফর্ম ওপেনার তুলে নেন ৭১ রান। অধিনায়ক বাবর ৩৪ বলে ৩৯ রান করে ফিরে গেলেও দাপটের সঙ্গে খেলে যান অপরপ্রান্তে থাকা রিজওয়ান। তিনে নামা ফখরও এদিন ছন্দে ফেরেন।

রিজওয়ানের সঙ্গে ৭২ রানের জুটি গড়েন তিনি। মিচেল স্টার্কের বলে ৫২ বলে ৬৭ রান করে রিজওয়ান ফিরে গেলেও আগ্রাসী ভঙিমায় খেলে যেতে থাকেন ফখর। ৩২ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় ৫৫ রান করেন ফখর। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি উইকেট স্টার্ক নেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন প্যাট কামিন্স ও অ্যাডাম জাম্পা।

অর্থসূচক/এএইচআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •