‘আয়না’ দেখেই নিজেকে ফিট রাখার তাড়না পান ‘বুড়ো’ মালিক

আর কয়েকমাস পরই ৪০-এ পা দেবেন শোয়েব মালিক। কিন্তু ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা এই ক্রিকেটারের ফিটনেস দেখলে তাঁর বয়স বোঝার কোনো উপায় নেই! এখনো যে মাপের ফিটনেস নিয়ন্ত্রণ করেন, অনায়সেই খেলে যেতে পারেন আরও অন্তত দুই বছর! স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর ডানহাতি এই ব্যাটার জানালেন, ‘আয়না’ দেখেই নিজেকে ফিট রাখার তাড়না পান তিনি।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে ৫৪* রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন মালিক। যেখানে একটি চারের পাশাপাশি ছিল ছয়টি ছয়ের মার। শুধু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নয়, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ বলে ২৬* কিংবা আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৫ বলে ১৯ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন তিনি। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই তিনটি ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয় মালিকের। ব্যাটিং ছাড়াও অনবদ্য ফিল্ডিংয়েও নতুন করে নজর কেড়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।

মালিক বলেন, ‘সত্যি বলতে, আয়নায় নিজেকে ফিট দেখার আত্মতৃপ্তি আছে আমার। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ক্রিকেট খেলাটা এখনও উপভোগ করছি এবং দিনশেষে এটা সহায়তাও করছে। আমার মনে হয়, নিজেকে ফিট রাখতে হলে প্রতিদিনই অনুশীলন করতে হয় এবং আমি সেটাই করে আসছি।’

অথচ পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে শুরুতে ছিলেন না মালিক। একদম শেষ মুহূর্তে দলে সংযুক্ত করা হয় তাঁকে। এটা নিয়ে খানিকটা হতাশাও ছিল পাকিস্তানের হয়ে ৩৫টি টেস্ট, ২৮৭টি ওয়ানডে এবং ১২১টি টি-টোয়েন্টি খেলা মালিকের।

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে দল যখন ঘোষণা করা হয়, আমার নাম সেখানে ছিল না। অবশ্যই আমার খুব খারাপ লেগেছে, হতাশ হই। তবে দলে না থাকার অভিজ্ঞতা তো বহুবার হয়েছে আমার। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পেলে কষ্ট লাগাটা অবশ্যই স্বাভাবিক। তবে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে, নিজের সঙ্গে কথা বলে সেই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতেই হয়।’

এবারের আসরে পাঁচটি ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে পাকিস্তান। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। দলের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে চান মালিক। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে ভালো করতে মুখিয়ে ছিল দলটা। একতাবদ্ধ আমরা, সবাই পরস্পরকে সহায়তা করে। টিম ম্যানেজমেন্ট ক্রিকেটারদের সবটুকু বিশ্বাস জোগায়। ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়কের কাছ থেকে একজন ক্রিকেটার এসবই চায়। সব মিলিয়ে দলের আবহ অসাধারণ এবং আমদের স্রেফ এখন নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।’

 

অর্থসূচক/এএইচআর