অভিনয়ও করে দেখাতে পারেনি কোন ক্রিকেটার: সুজন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে একের পর এক ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শরীরী ভাষায়ও পিছিয়ে ছিল মাহমুদউল্লাহর দল। আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও যেন ছিল না টাইগারদের। এর কঠোর সমালোচনা করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই পরিচালক মনে করেন, আত্মবিশ্বাসী হওয়ার অভিনয়ও করে দেখাতে পারেনি বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটার!

হার, হার, হার, হার এবং হার! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই ছিল বাংলাদেশের ফলাফল। শেষ দুই ম্যাচে তো দলীয় রান সংখ্যা তিন অঙ্কেই পৌঁছাতে পারেননি টাইগাররা। স্পষ্টত আত্মবিশ্বাসী ছিল না দলের ব্যাটসম্যানরা এবং এখানে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার অভিনয়ও করতে ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহর দল। যার প্রভাব পড়েছে খেলার মাঠে, মনে করছেন সুজন।

আসন্ন পাকিস্তান সিরিজে দলের টিম ডিরেক্টরের দায়িত্ব পাওয়া সুজন বলেন, ‘মানসিক ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তবে আপনি পারফর্ম করলে ভালো থাকবেন, না করলে শিখতে হবে। আমরা ক্রিকেট খেলায় একটা কথা বলি সবসময়, ক্রিকেটে অভিনয়টা খুবই প্রয়োজন। আপনাকে কখনো কখনো অভিনয় করতে হবে যে আপনি আত্মবিশ্বাসী এবং এভাবেই ব্যাটিং করতে চান।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা ছেলে প্রতিদিন তো রান করবে না৷ কিন্তু আত্মবিশ্বাস তো গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক ব্যাপারটা জরুরি, আমি যদি প্রতি ম্যাচে নিজের ব্যাটিং স্টাইল পরিবর্তন করি তাহলে কঠিন। চাপের মুহূর্তে আমাকে ভিন্ন ধরণের ব্যাটিং করতে হবে কেন? আমার নিজের তো একটা সেটাপ আছে যে কীভাবে রান করতে পারেন।’

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে স্কটল্যান্ডের মতো তুলনামূলক খর্বশক্তির দলের বিপক্ষেও হেরেছে বাংলাদেশ। কেবল মাত্র জয়ের দেখা পেয়েছে আরও দুটি দুর্বল দল ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে। এমনকি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিবেদনের ঘাটতি স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। আর তাই তাদের পিছিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সুজন। টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য পেতে আগ্রাসী হওয়ার বিকল্প নেই, এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন সুজন।

বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি অল্প বলের খেলা, আপনাকে আক্রমণাত্মক থাকতেই হবে। আপনি যদি শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ডের কথা বলেন দেখেন উইকেট যাওয়ার পরেও তারা ইতিবাচক। আপনি বেশ কিছু বল ডট দিয়ে পরে আক্রমণাত্মক হলে কঠিন। যে উইকেটেই খেলেন ১৪০-৬০ এর নিচে হলে কাজটা সহজ হয় না।’

 

অর্থসূচক/এএইচআর