খন্দকার মোশতাকের নাতির বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
278

বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু ও নাতি খন্দকার ইফতেখার আহমেদ শাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার ৩নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বুধবার বিকালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী খন্দকার জাবির আহম্মেদ সারোয়ার।

এ সময় আদালত ইশতিয়াক ও খন্দকার ইফতেখার আহমেদ শাদকে গ্রেফতার করতে দাউদকান্দি থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। তবে অভিযুক্ত ওই আসামিরা দীর্ঘদিন কানাডায় পালিয়ে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। এ মামলার অপর আসামি সম্পত্তির কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন জামিনে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুনি মোশতাকের পিতা হযরত খন্দকার কবির উদ্দিন আহামেদ ছিলেন একজন পীর। রয়েছে তার ভক্তবৃন্দ। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ ছেলে এবং পাঁচ মেয়েসহ রেখে গেছেন বিশাল সম্পত্তি। এরই মধ্যে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কিছু সম্পত্তি কল্যাণমূলক কাজের জন্য ট্রাস্টের নামে লিখে দেওয়া হয়।

এছাড়া ওয়ারিশ সূত্রে বংশের সব সদস্যরা বাকি সম্পত্তির মালিক হলেও কবির উদ্দিনের সপ্তম সন্তান খুনি মোশতাকের একমাত্র ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবু বংশের সব সদস্যদের সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, খন্দকার কবির উদ্দিনের নামে ট্রাস্টের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান হয়ে বাবু ওই স্টেটের কার্যালয়ে নিজের এবং স্ত্রী সন্তানদের ছবি টাঙিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কবির উদ্দিনের অন্যসব ওয়ারিশগণকে ওই সম্পত্তি এবং বাড়িসহ মাজারে প্রবেশ করতে দেয় না বাবু।

ট্রাস্ট এবং দাদার সম্পত্তি দখলে রাখতে মোশতাকপুত্র এলাকায় একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কানাডায় বসে ওই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। এরই মাঝে বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল এবং ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রয় করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা এবং স্টেটের উত্তরাধিকারীর অংশিদারিত্ব পেতে কবির উদ্দিনের ওয়ারিশ খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার গত বছরের শেষের দিকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মোশতাকপুত্র ইশতিয়াক, নাতি ইফতেখার আহমেদ শাদসহ অভিযুক্ত কেয়ার টেকার নিজামুদ্দিনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় মঙ্গলবার মোশতাকপুত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার বাদী খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার অভিযোগ করে বলেন, খুনি মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আমাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছেন। তিনি কানাডায় বসে এলাকার একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে স্টেটসহ অন্য সব সম্পত্তির ভোগদখল ও সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের ওয়ারিশদের স্বাক্ষর জাল করে বেশ কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।

এছাড়া আরও কিছু সম্পত্তি বিক্রির পাঁয়তারা করছেন। তার নির্দেশে এসব জালিয়াতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মোশতাকের বাড়ির কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন।

তিনি বলেন, কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিনই মোশতাকপুত্রের সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে থাকেন। কানাডায় বসে ওই কেয়ারটেকারের মাধ্যমেই বাহিনী নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার আধিপত্য ধরে রেখেছেন মোশতাকপুত্র ইশতিয়াক।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালত থেকে ওয়ারেন্টের কপি হাতে পেলে আসামিরা যদি দেশে না থাকে তাহলে সেটার বিষয়েও সিনিয়র অফিসারদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থসূচক/এমএস