‘বিদায় বেলায়’ কান্নায় ভেঙে পড়লেন মেসি

0
114

বার্সেলোনার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে মেসির। গত জুনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ন্যু ক্যাম্পে থেকে যেতে চেয়েছিলেন। সেই ভাবে আলোচনাও চলছিল। কিন্তু লা লিগার নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ায় চুক্তির আর হয়নি। এরই সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে তার বার্সেলোনা অধ্যায়।

রোববার (৮ আগস্ট) ন্যু ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসি বিদায় জানাতে আসলেন বার্সেলোনাকে। হুয়ান গাম্পার ট্রফির খেলা শুরু হবে আর কিছুক্ষণ পর। জুভেন্টাসের বিপক্ষ ম্যাচটিতে মাঠে নামার আগে মেসি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসলেন বিদায় বলতে। সেখানে এসেই অঝোর ধারায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন বার্সার সদ্য সাবেক সুপার স্টার।

মেসি যখন ক্যাম্প ন্যুয়ের সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন, তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে উঠে পুরো কক্ষ। বক্তব্য দিয়ে মঞ্চে উঠার সময় সেই করতালির পর কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। কাঁদতে কাঁদতে টিস্যু দিয়ে বারাবার চোখ মুছতে দেখা যায় তাকে। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে কথা বলা শুরু করেন তিনি।

নিজের বিদায়ি বক্তব্যের শুরুতেই মেসি বলেন, সত্যি বলতে আমি জানি না কি বলবো। গত কিছুদিন ধরে আমি ভেবছি কি বলবো, কিন্তু সত্যটা হচ্ছে, আমি কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। এতো বছর, প্রায় পুরো জীবনটাই এখানে থাকার পর এটা আমার জন্য কঠিন, আমি এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আর এবার থাকতে চাইলাম, কিন্তু থাকতে পারলাম না। এভাবে বিদায় হবে ভাবিনি। তবে আমাকে বিদায় বলতেই হচ্ছে বার্সেলোনাকে। যে ক্লাব আমার সবটুকু জুড়ে আছে।

ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির এই আবেগঘন কান্নার দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবার চোখেই যেন নেমে এসেছিল পানির ধারা। সবাই বাকরুদ্ধ। কেউ কথা বলতে পারছিল না। কেউ এই মুহূর্তটির জন্য প্রস্তুত ছিল না। সবার কাছেই মনে হচ্ছিল অবিশ্বাস্য একটি মুহূর্ত।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে মেসির সঙ্গে বার্সার চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। দুই পক্ষ আর্থিক বিষয় এবং চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে একমত হয়েছিলো। কিন্তু লা লিগার আরোপিত অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতায় তা সম্ভব হয়নি।

গত ৩০ জুন বার্সার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিলো মেসির। তখনও শোনা গিয়েছিলো, চুক্তি নবায়ন হচ্ছে। এমনকি বার্সাকে সাহায্য করতে বেতন অর্ধেক কমিয়েও নিতে চেয়েছিলেন সদ্য সাবেক বার্সা অধিনায়ক। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। শেষ পর্যন্ত ২১ বছরের বন্ধন ছিন্ন হলো।

অর্থসূচক/এএইচআর