জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়ে সেনাপ্রধান নিজেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা

0
84

অং সান সুচি সরকারকে উৎখাত করা সামরিক জান্তা মিন অং হ্লাইং নিজেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে মিয়ানমারে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বহু দলের অংশগ্রহণে নতুন নির্বাচন হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছেন। ছয় মাসে আগে অং সান সুচি সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল মিন মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারি করেন।

জান্তা সরকারের স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল তাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানায়, মিন অং হ্লাইংকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (কেয়ারটেকার সরকার) প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে। পরে জান্তা প্রধান নিজেই এক ঘোষণায় নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন এবং জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

জেনারেল মিন অং হ্লাইং আরো বলেছেন, আসিয়ান বিশেষ দূত হিসেবে যার নামই ঘোষণা করুক, তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তার সরকার।

এদিকে, সোমবার (২ আগস্ট) বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। কূটনীতিকরা বলছেন, মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ও তার বিরোধীদের মধ্যে একটি শান্তি সংলাপ আয়োজন করা এবং সহিংসতা বন্ধের দায়িত্ব দিয়ে তারা একজন বিশেষ দূত চূড়ান্ত করবেন এ বৈঠকে। এর আগে এপ্রিলে আসিয়ানের সঙ্গে ৫ দফায় রাজি হয় সামরিক জান্তা। এতে সহিংসতা বন্ধ, রাজনৈতিক সংলাপ এবং একজন আঞ্চলিক বিশেষ দূতের নাম ঘোষণার কথা বলা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এটি এক ধরনের কৌশল মিয়ানমার জান্তা প্রধানের। আর জরুরি অবস্থা আরও ২ বছর বাড়ানোর মাধ্যমে জান্তা সরকারের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করা হলো। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে হয়ত কৌশলও বদলাতে পারেন জান্তা প্রধান, এমন শঙ্কা সাধারণ মানুষের।

যদিও নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর আরো একবার তিনি এক বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন নতুন সময়সীমার কথা বলছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি ওই ঘোষণা দেন।

এদিকে সুচি সরকারকে উৎখাত করার পর দেশে রক্তক্ষয়ী প্রতিবাদ হয়ে আসছে এবং এসব বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শক্ত হাতে দমন করছেন জেনারেল মিন। এ পর্যন্ত দেশটিতে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে ৯০০ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, পার্সটুডে

অর্থসূচক/এএইচআর