মিয়ানমারের সেনা শাসকের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি

0
79

নির্বাচনে জয়ী অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দলকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের ছয় মাস পর জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটিতে বহুদলীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছেন।

রোববার (১ আগস্ট) রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যালেনে দেওয়া এক ভাষণে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। পাশাপাশি আসিয়ান মনোনীত যেকোনা বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে তার প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।

মিন অং হ্লাইং বলেন, মিয়ানমার আসিয়ানের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপসহ আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে থেকে জোটের সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরিতে একজন বিশেষ প্রতিনিধি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে আসিয়ান। এ লক্ষে সোমবার বৈঠকে বসছেন জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে মিয়ানমারের ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)- জাতীয় ঐক্যের সরকার- যাকে প্রবাসী সরকার বলা হচ্ছে, এ সরকারকে পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে আখ্যায়িত করে কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে। এতো কিছুর পরও জান্তা সরকারের চলার পথ খুব একটা মসৃণ নয়। কারণ মিয়ানমারের সেনাশাসকরা ক্রমাগতভাবে একটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরোধিতা করে যাচ্ছে। এসব চাপ সামলাতেই দুই বছর পর নির্বাচনের ঘোষণা দিল জান্তা সরকার।

মিয়ানমারে সবশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করে সুচির দল। কিন্তু নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ জানিয়ে আসছিল সেনাবাহিনী। পরে গত ১ ফেব্রুয়ারি সুচির দলকে সরিয়ে ক্ষমতার দখল নেয় সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে সামরিক জান্তা সরকারের আইন শৃঙ্খলারক্ষী বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে ৯ শতাধিক আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছেন।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমার একটা অস্থির সময় পার করছে। এ সরকার একদিকে যেমন দমননীতি চালিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সামরিক শাসনবিরোধী সামাজিক শক্তি, যাদের সিডিএম (সিভিল ডিজওবিডিয়েন্স মুভমেন্ট) বলা হয়, তাদের অন্তরীণ করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এক হাজারের কাছাকাছি সামরিক শাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে সামরিক জান্তা। সেই সঙ্গে কয়েক লাখ মিয়ানমারবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) হাজার হাজার শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করে সামরিক শাসনবিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অর্থসূচক/এএইচআর