আগস্টের আগে খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান!

দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাড়তে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি। এই ছুটি ৩০ জুন থেকে বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হতে পারে। পরে সর্বশেষ পরিস্থিতির আলোকে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ফের করোনাভাইরাস অতিমারি পরিস্থিতির অবনতি হওয়া এবং করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট) ছড়িয়ে পড়তে থাকায় দেশব্যাপী আরোপিত বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটিও বাড়ানোর চিন্তা চলছে। এর কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে ঈদুল-আজহার ছুটি। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঈদের ছুটি পর্যন্ত, এমনকি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, সাধারণত আমরা ছুটির ২-১ দিন আগে পরবর্তী ছুটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানিয়ে থাকি। আর এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা ও করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু এখনো আমাদের হাতে বেশ সময় আছে, তাই এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

গত ২৬ মে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। সেদিন তিনি ১৩ জুনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। ওইদিন করোনা সংক্রমণের হার ছিল রোগী পরীক্ষা অনুযায়ী ৭ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি সংক্রমণের আওতাও বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে।

যখন ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখনো করোনা পরিস্থিতির এতটা অবনতি হয়নি। তখন দেশে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৮ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। ইতোমধ্যে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলায় শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি। সামনে কোরবানির গরুর হাট। একে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচল এবং ভিড় অনেক বাড়বে। সব মিলিয়ে আগামী কিছুদিন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, শনাক্তের হার নিরাপদ পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পক্ষে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে এলে পরিস্থিতিকে নিরাপদ মনে করা যেতে পারে। সে হিসেবে সংক্রমণ বা শনাক্তের হার নিরাপদ পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে খোলা হচ্ছে না তা মোটামুটি ধরে নেওয়া যায়। আর সংক্রমণের হার বর্তমান পর্যায়ে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ জুলাই নয়, এর পরও বাড়তে পারে।।