নিয়োগ কাণ্ড: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি রাবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
118

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে আজ শনিবার (০৮ মে) বিকেল ৩টায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন।

এরপর প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান এম সোবহান। সেখানে নিয়োগের বিষয়ে ‘জেরা’ করা হচ্ছে তাকে। এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে চলছে এ জিজ্ঞাসাবাদ। তার সঙ্গে রয়েছেন- কমিটির সদস্য এবং ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. জাকির হোসেন আখন্দ ও ইউজিসির পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

তদন্ত দল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালামের সঙ্গে প্রথমে সাক্ষাৎ করেন।

এরপর একে একে নিয়োগের কুশীলব সহকারী রেজিস্ট্রার তারিকুল আলম, পরিষদ শাখার কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ, সংস্থাপন শাখার প্রধান ইউসুফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এরপর সেখানে ভিসির জামাতা শাহেদ পারভেজ তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্য দেন। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, ইনস্টিটিউটের প্রধানরাও তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৭ মে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। ৬ মে (বৃহস্পতিবার) তার শেষ কার্যদিবস ছিল। শেষদিন বিভিন্ন পদে ১২৫ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দিয়ে যান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে অ্যাডহকে নিয়োগের কথা ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড, প্রশাসন ভবন, শহীদুল্লা কলা ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন।

দুপুর ১২টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী শেখ রাসেল স্কুলের মাঠ থেকে প্যারিস রোডে শোডাউন দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে আসেন। এরপর তারা প্রশাসন ভবনের পাশে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিপ্রত্যাশী সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাস্টাররোলের কর্মচারীর মুখোমুখি অবস্থায় চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রথমে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেকশক অফিসার মাসুদের ওপরও হামলা চালান। পরে রাবি ছাত্রলীগ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা হয়। এ সময় রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দিলে মহানগর ছাত্রলীগেরর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগ পালিয়ে যায়।

অর্থসূচক/কেএসআর