বাড়াচ্ছে উদ্বেগ, ১৭ দেশে করোনার ভারতীয় ধরন

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
152

করোনার ভারতীয় ধরনটি ‘বি.১.১৬৭’ নামে পরিচিত। করোনার এ ধরনকে অতি সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এ ধরন ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

ডব্লিউএইচও জানায়, ভারতে প্রথম শনাক্ত ‘বি.১.১৬৭’ নামের করোনার ধরনটি বিশ্বের এক ডজনের বেশি দেশে পাওয়া গেছে। এমন দেশের সংখ্যা কমপক্ষে ১৭।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাটি বলেছে, জিনোম সিকোয়েন্সিং ডেটাবেইস গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটায় (জিআইএসএআইডি) গতকাল পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টির বেশি করোনার ‘বি.১.১৬৭’ ধরনের সিকোয়েন্স আপলোড করা হয়েছে। অধিকাংশ সিকোয়েন্সই ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে আপলোড করা হয়েছে।

অপর দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও কম্বোডিয়া।

করোনা ভাইরাস প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তিত হয়ে নিজের নতুন নতুন ধরন তৈরি করে। ভারতে গত অক্টোবরে প্রথম ‘বি.১.১৬৭’ ধরনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় বলে দেশটির গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে। এ ধরনেরও একাধিক সংস্করণ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। তারপরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদেরকে এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজস্ব অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, ভারত ইতোমধ্যে অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করেছে।

ভারতের অবস্থা দেখে স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতোমধ্যে জানিয়েছে, কোনোভাবেই যেন ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে না পৌঁছায়। একইসঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানে তাহলে বাংলাদেশের অবস্থাও ভারতের মতো হতে পারে।

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় অন্তত তিনটি কাজ করতে হবে বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধির কোনও বিকল্প নেই এটা শুরু থেকেই বলে আসা হয়েছে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এখন সময় এসছে সাধারণ মানুষকে সরকার এসব মানতে বাধ্য করাবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে এটা কেবল কঠিন নয় অসম্ভব বলেও মন্তব্য তাদের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

অর্থসূচক/কেএসআর