লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

0
199

একটি জয় চাই, একটি জয় ঘুরে দিতে পারে বাংলাদেশকে। প্রথম ওয়ানডে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচের আগে এমন আকাঙ্ক্ষা ছিল তামিমদের মনে। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয় ধরা দিল না তাদের হাতে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ মিঠুনের হাফ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান তোলে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটে জিতেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ২-০ তে এগিয়ে থেকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়েই শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।

যদিও শুরুতেই নিউজিল্যান্ড শিবিরে আঘাত হেনেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ২৮ রানে নিজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে মার্টিন গাপটিলকে ফেরান বাঁহাতি এই পেসার। আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে থাকা গাপটিল ফেরেন ২৪ বলে ২০ রান করে। মুস্তাফিজের পর নিউজিল্যান্ড শিবিরে আঘাত হেনেছেন শেখ মেহেদী হাসান। প্রথম ম্যাচে উইকেট না পেলেও এদিন ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।

১৩ রান করা হেনরি নিকোলসকেও ফেরান মেহেদী। মাত্র ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের প্রতিরোধ গড়েন ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম। তাঁদের দুজনের শতরানের জুটিতে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিলো নিউজিল্যান্ড। তবে তাসকিনের বলে তামিমের দুর্দান্ত এক থ্রোতে ভাঙে তাঁদের ১১৩ রানের জুটি। সেঞ্চুরি করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন কনওয়ে।

কিন্তু এরপর তাসকিন আহমেদের বলে জিমি নিশামের হাতের ক্যাচ ছেড়ে দেন মুশফিকুর রহীম। পরে টম লাথামের ফিরতি ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি শেখ মেহেদি হাসান। এ দুজনকে সুযোগ দিয়েই ম্যাচ হাতছাড়া করে ফেলে বাংলাদেশ। জীবন পেয়ে অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে দেখিয়েছেন বাঁহাতি টম লাথাম। শেষ পর্যন্ত ১১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ৫ উইকেটের সহজ জয় এনে দিয়েই মাঠ ছেড়েছেন কিউই অধিনায়ক।

এর আগে হ্যাগলি ওভালে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে লিটন দাসকে হারালেও আগের ম্যাচের মতো দুঃস্বপ্ন চড়াও হতে দেননি তামিম-সৌম্য সরকার। এই দুজনে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েছেন ৮১ রানের জুটি। এই দুজনের ব্যাটেই ১৪.১ ওভার দলীয় পঞ্চাশ রান পূরণ হয় বাংলাদেশের। সেই ওভারের দ্বিতীয় বলে স্কয়ার লেগে হ্যানরি নিকোলসের হাতে জীবন পান সৌম্য। পঞ্চম বলে কাইল জেমিসনের ফিরতি ক্যাচে ফিরতে পারতেন তামিমও। তবে ক্যাচ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত তামিমের পক্ষে যায়।

এরপর কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনারকে পা এগিয়ে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে আউট হয়েছেন সৌম্য। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৪৬ বলে ৩২ রান। ৩টি চার এবং ১টি ছক্কায় এই রান করেছেন তিনি। সৌম্য ফিরে গেলে মুশফিককে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস টেনেছেন তামিম। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ৮৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তামিমের এটি পঞ্চাশতম হাফ সেঞ্চুরি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ব্যক্তিগত ৭৮ রানে রান আউট হয়েছেন তামিম। এর ফলে ১১ চারে সাজানো এই ইনিংসের সমাপ্তি হয় ঝুঁকি নিয়ে রান নিতে গিয়ে।

আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তামিমের এটি পঞ্চাশতম হাফ সেঞ্চুরি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ব্যক্তিগত ৭৮ রানে রান আউট হয়েছেন তামিম। জিমি নিশামের পায়ের ছোঁয়াতে রান আউট হয়ে ফিরতে হয় তামিমকে। এর ফলে ১১ চারে সাজানো এই ইনিংসের সমাপ্তি হয়।

বাকি সময়টায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের হাইলাইটস হয়ে থেকেছেন মিঠুন। চার ছক্কার ফুলঝুরিতে শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৭ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। যদিও মাঝে মুশফিক ৩২ এবং মাহমুদউল্লাহ ১৬ রান করে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া শেখ মেহেদী এই ম্যাচে ফিরেছেন ৭ রান করে। শেষ পর্যন্ত সাইফউদ্দিনকে নিয়ে মিঠুন ইনিংস শেষ করে এসেছেন।

অর্থসূচক/এএইচআর