অক্সফোর্ডের টিকা বন্ধের কোনো কারণ নেই: ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

0
276

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা টিকা নেওয়ার পর টিকা গ্রহীতাদের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধছে বলে অভিযোগ করা হলেও; এটা যে সত্য, এমন কোনো ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় কোনো দেশেরই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা প্রয়োগ বন্ধ করা উচিত নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডেনমার্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহীতাদের রক্ত জমাট বাঁধার অভিযোগ সামনে এনে এই টিকা প্রয়োগের কাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়। ডেনমার্কের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ এই টিকা প্রয়োগের কাজ বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বিবৃতিতে ডেনমার্ক জানিয়েছিল, এই পদক্ষেপ সতর্কতামূলক। তবে রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে টিকার নেওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। গত মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) পর্যন্ত দেশটিতে রক্ত জমাটের ২২টি ঘটনা পাওয়া গেছে।

ডেনমার্ক ছাড়া অস্ট্রিয়াও এই টিকা প্রয়োগের কাজ বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির দাবি, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেওয়ার পরই তীব্র রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ৪৯ বছর বয়সী এক নার্সের মৃত্যু হয়। এছাড়া বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং লুক্সেমবার্গও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার একটি ব্যাচ বাতিল করেছে।

এ পর্যন্ত ইউরোপের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ করোনার এই টিকা নিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে ৩০টি। এছাড়া টিকা নেওয়ার পর ইতালিতে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি) বা রক্ত জমাট বেঁধে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও মারা গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এসব রিপোর্ট সামনে আসার পরই সেগুলো খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করে ডব্লিউএইচও। এই টিকার নিরাপত্তাগত কোনো সমস্যা আছে কিনা, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে টিকা নেওয়ার কোনো সম্পর্ক এখনও পাওয়া যায়নি, জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এর আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার সঙ্গে টিকা গ্রহীতার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির কোনো ইঙ্গিত নেই বলে বৃহস্পতিবার জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপীয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ)।

সূত্র: বিবিসি।

অর্থসূচক/কেএসআর