খালেদার দণ্ড স্থগিত ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
105
ফাইল ছবি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে তার পরিবার। এছাড়া খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়েও আবেদন করা হয়েছে।

আজ বুধবার (০৩ মার্চ) খালেদা জিয়ার পরিবারের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এ আবেদন জমা দেন। আবেদনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করে সেটি সচিবের দফতরে পাঠিয়ে দেন।

পরিবারের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জমা দেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে তার স্থায়ী জামিনের আবেদনও করা হয়। তবে, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সব শর্তই অক্ষরে-অক্ষরে পালন করে আসছেন। ফলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আশা করা যায়, সরকার তাকে স্থায়ী জামিন দিতে পারে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। পরে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে প্রায় ১১ মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির শর্ত দুটি হলো- তিনি নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার ছয় মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়। পরে দ্বিতীয় দফায় তার সাজার স্থগিতাদেশ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় মুক্তির ক্ষেত্রেও আগের শর্তগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে।

বর্তমানে খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের বাসা ‘ফিরোজা’য় আছেন। তার চিকিৎসার সবকিছু লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান তত্ত্বাবধান করছেন। তার সঙ্গে নার্সসহ কয়েকজন অবস্থান করছেন।

অর্থসূচক/কেএসআর