আফগানিস্তানে ৩ গণমাধ্যম কর্মীকে গুলি করে হত্যা

0
91

আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের তিন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিন নারীই জালালাবাদের একটি রেডিও ও টিভি চ্যানেলে তুর্কি ও ভারতীয় সিরিয়ালের ডাবিং করতেন। নিহতরা হলেন মুরসাল ওয়াহিদি, শাহনাজ ও সাদিয়া। নিহত তিনজনেরই বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর। এনিকাস টিভির ডাবিং বিভাগে কাজ করতেন তাঁরা।

টেলিভিশনটির ডিরেক্টর জালমাই লতিফ জানিয়েছেন, ওই নারী কর্মীরা কাজ সেরে টিভি স্টেশন থেকে বেরোবার পর ওই ঘটনা ঘটে। তিনজনই অফিস থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন। তারা হেঁটেই বাড়ি ফিরছিলেন। তখন আক্রমণকারীরা এসে গুলি চালায়। তবে একটি নয় দুইটি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।

সম্প্রতি আফগানিস্তান জুড়ে সাংবাদিক, সমাজকর্মী, সরকারি কর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। তার মধ্যে অনেকেই নারী। ভয়ের পরিবেশ তৈরির জন্য এই কাজ করা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। কারা এই আক্রমণ করেছে তা স্পষ্ট নয়। কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। তবে নাঙ্গাহারের পুলিশ প্রধান জুমা গুল হেমাত জানিয়েছেন, ঘটনার কাছাকাছি এলাকা থেকে একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার করেছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। যাকে ধরা হয়েছে, সে তালেবানের সদস্য। তবে তালেবান জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তারা কোনভাবেই যুক্ত নয়।

নাঙ্গাহারে আইএসও সক্রিয়। এই ঘটনার পর তারা কিছু বলেনি। তবে গত ডিসেম্বরে ওই চ্যানেলের একজন নারী কর্মীকে আইএসের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হত্যা করেছিল।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাংবাদিকদের কাছে আফগানিস্তান হলো সব চেয়ে বিপজ্জনক দেশ। ২০১৮ থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত আফগানিস্তানে ৬৫ জন সাংবাদিক আফগানিস্তানে মানবাধিকার কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আফগান মিডিয়া অ্যাডভোকেসি গ্রুপ নাই-এর প্রধান মুজিব খালওয়াতগার বলেছেন, সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। এর ফলে তারা নিজেরাই খবর সেন্সর করবেন, ঝুঁকি আছে এমন খবর দেবেন না, এমনকী দেশ ছেড়েও চলে যেতে পারেন। এই ঘটনার পর নাঙ্গাহারের নারী মিডিয়া কর্মী ও সাংবাদিকরা কাজে যাওয়া বন্ধ করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

আফগান মানবাধিকার কমিশনের প্রধান শাহজাদ আখতার বলেছেন, তিন নারী মিডিয়া কর্মীকে হত্যার ঘটনা ভয়ঙ্কর। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। হত্যা বন্ধ হোক। আফগানিস্তানের ভবিষ্যতকে যেন এভাবে ধ্বংস করা না হয়। সূত্র: এএফপি, এপি, রয়টার্স

অর্থসূচক/এএইচআর