দিনব্যাপী আড়ম্বরে পালিত হলো ই-সিএমএ ‘সুইট মিট’

0
223

দিনব্যাপী আড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এফ-কমার্স এর প্লাটফর্ম ই-কমার্স মার্চেন্ডাইজ এলায়েন্স (ই-সিএমএ) আয়োজিত সুইট মিট-২০২১।

আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার নূর বক্স লেনে অবস্থিত জমিদার আবুল হাসানাতের জমিদার বাড়িতে এ অনুষ্ঠান হয়। সকাল ১০টায় কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ্য প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এফসিএমএ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনকেএ মুবিন এফসিএ, এফসিএস।

ই-সিএমএ’র প্রতিষ্ঠাতা শামীমুল ইসলাম এফসিএমএ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ই-ক্যাব’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম শাহাব উদ্দিন শিপন, অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সেভেন সার্কেল সিমেন্ট’র সিএফও মোঃ কাউসার আহমেদ, হোসাফ গ্রুপ’র সিএফও জাহির উদ্দিন হায়দার কচি এফসিএমএ, ই-ক্যাব’র ডিরেক্টর হোসনে আরা খান নওরীন প্রমুখ।

উদ্বোধনের পর থেকেই জমকালো আয়োজনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান উদযাপন হয়। অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে শীতকালীন পিঠা উৎসবের সঙ্গে খেজুরের কাঁচা রস, মুড়ি-মুড়কি ও খেলাধুলার অয়োজন করা হয়। এতে অনুষ্ঠানের অতিথিসহ উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উদ্যোগক্তাদের সফলতা কামনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ্য প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এখনো ই-কমার্স তেমনভাবে জনপ্রিয় হয়নি। কারণ অনলাইন থেকে পণ্য কেনার ব্যাপারে মানুষের আস্থার জায়গা কম। আপনারা যারা অনলাইনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা রয়েছেন তাদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষের আস্থার জায়গা ধরে রাখতে হবে। কারণ এখানে মানুষ দেখে কেনার সুযোগ পাচ্ছে না। তাই ক্রেতাদের ধরে রাখতে হলে কমিটমেন্ট ঠিক রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদেরকে প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। এতে ক্রেতারা আপনাদের পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হবে। আপনারা এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে সকলে একসঙ্গে কাজ করলে বড় একটা বাণিজ্য দাঁড় করাতে পারবেন।

ডিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনকেএ মুবিন বলেন, করোনা মহামারিতে অনলাইন প্লাটফর্মের প্রতি মানুষের চাহিদা বেড়েছে। এই সময়ে অনেকেই অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন এবং হচ্ছেন। তাই অনলাইন বাজারে এখন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এখানে টিকে থাকতে পণ্যের কোয়ালিটির দিকে বেশি নজর দিতে হবে। আমরা আশাকরি আপনারা সেদিকে নজর দিবেন। এবং কোয়ালিটির সঙ্গে আপনাদের কমিটমেন্ট বজায় রাখবেন। ই-সিএমএ প্লাটফর্মের মাধ্যমে এই কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশা করছি। আপনাদের সফলতা কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ই-সিএমএকে আমি নিজের পরিবারই মনে করি। আমরা এই পরিবারের সঙ্গে আগেও ছিলাম সামনেও থাকতে চাই। এই প্লাটফর্মের অনেক উদ্যোক্তাকে দেখছি এবং তাদের অনেক পণ্য ও নতুন ভাবনা রয়েছে। আমরা তাদের এই পণ্য কিংবা ভাবনাকে মানুষের মাঝে তুলে ধরতে চাই। উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনার জায়গা মানুষকে জানাতে চাই।

ই-ক্যাব’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম শাহাব উদ্দিন শিপন বলেন, ই-সিএমএ প্লাটফর্মের মাধ্যমে অনেক নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, আমরা আপনাদের স্বাগত জানাই। আপনারা ফেসবুক ভিত্তিক যে ব্যবসা গড়ছেন তা ধীরে ধীরে ওয়েবের দিকে নিয়ে আসবেন। ফেসবুক আপনাদের মার্কেটিং টুলস হিসেবে কাজ করবে। আমরা ই-ক্যাবের মাধ্যমে ফেসবুক অ্যালায়েন্স ফোরাম তৈরি করেছি। আপনারা যারা ফেইসবুক ভিত্তিক ব্যবসা করেন তারা এই ফোরামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া অনলাইনে ব্যবসাকে আরও সহজ ও সফলভাবে করতে বিভিন্ন ধরনের কোর্স করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁতশিল্প, কারুশিল্প, জামদানি শাড়িসহ উদ্যোক্তাদের হাতে বানানো বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং তার গুণগত মান অতিথিদের দেখানো হয়। এছাড়া ২০২০ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে সকল উদ্যোক্তারা লাখপতি হয়েছেন তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। এরপর খেলায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া র‍্যাফেল ড্র’র মাধ্যমে বিজয়ী উদ্যোক্তা ও অতিথিদেরকেও পুরস্কৃত করা হয়।

উল্লেখ্য, সিএমএ পেশার সঙ্গে ই-কমার্স নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তাদের নিয়ে ই-সিএমএ। ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর ২৩ জুন শামীমুল ইসলাম এফসিএমএ’র হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে।

ছবি: মেহেদী হাসান রানা

অর্থসূচক/এনএইচ/এএইচআর