৭ কলেজের বিষয়ে জরুরি সভা চলছে

0
155

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবির বিষয়ে জরুরি সভা চলছে। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ সভা শুরু হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টায় সভা হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে দুপুরেই শুরু হয়েছে।

ভার্চুয়ালি এ সভায় যুক্ত আছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাত কলেজের সমন্বয়কসহ কলেজের অধ্যক্ষরা।

জানা গেছে, বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে নীলক্ষেতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে আসেন সাত কলেজের সমন্বয়ক ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।

প্রসঙ্গত, গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত কলেজের চলমানসহ সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার রাতেই নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করেন বিক্ষুব্ধরা। শতাধিক শিক্ষার্থী রাত ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয়ার পর চলে গেলেও বুধবার সকালে রুটিন মেনে যথাসময়ে পরীক্ষা নেয়াসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধ করে ঢাকার সাতটি পয়েন্টে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের এই আন্দোলন সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও নয়। আমাদের আন্দোলন আমাদের পরীক্ষা আদায়ের অধিকারের। আমাদের একদফা দাবি হলো- আমাদের পরীক্ষা নিতে হবে। কেননা আমাদের হল বন্ধের মধ্যেও আমরা গ্রাম থেকে এসে ঢাকায় এসেছি। কিন্তু আমাদের পরীক্ষা স্থগিত করা এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরম ভুল সিদ্ধান্ত।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যে হঠাৎ করে কেন পরীক্ষা শুরু করল? কেনই বা এত শিক্ষার্থীদের ঢাকায় আনল? এখন কেনই বা মাঝপথে পরীক্ষা বন্ধ করে দিল? শিক্ষার্থীদের এই আর্থিক ক্ষতি কে পূরণ করবে? যেখানে করোনার প্রভাবে শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের হঠকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের সব মার্কেট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। আমরা এমনিতেই সেশন জটে আছি। পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। এতে ভয়াবহ সেশন জটে পড়তে যাচ্ছি। আমাদের পরীক্ষা নিতে হবে।

এর আগে সোমবার বেলা সোয়া দুইটায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৪ মে থেকে দেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। তার আগে ১৭ মে আবাসিক হলগুলো খুলবে। তবে হলের ওঠার আগেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হবে। আর খোলার আগে কোনো পরীক্ষা হবে না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা ও হল খোলার ঘোষণা দিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তও বাতিল হবে। অবশ্য অনলাইনে ক্লাস চলবে।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এগুলোতে মোট শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপ কমিয়ে শিক্ষার মান বাড়াতে কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলেও এখনো সমস্যাগুলো দূর হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কলেজগুলোর বড় সমস্যা হলো ঠিক সময়ে পরীক্ষা না নেওয়া এবং দেরিতে ফল প্রকাশ করা। এই সমস্যা নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

অর্থসূচক/এএইচআর