ভারতের মন্ত্রী জাকির হোসেনের ওপর বোমা হামলা, আহত ১৩

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ওপর বোমা হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে মন্ত্রী ছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৩ নেতাকর্মী।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফরমে এ ঘটনা ঘটে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বোমা হামলায় গুরুতর আহত মন্ত্রীকে প্রথমে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।

রাতেই তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর হাতে-পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

মন্ত্রী জাকিরের ওপর এ হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবু তাহের। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও বহরমপুরের এমপি অধীর চৌধুরীও এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মুর্শিদাবাদের এ ঘটনাকে বাংলার রাজনীতিতে ‘কালো দিন’ বলে টুইট করেছেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজনীতিতে হিংসার কোনো জায়গা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জাকিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন ফিরহাদ।

পুলিশ জানায়, কলকাতায় যাওয়ার জন্য বুধবার রাতে রওনা দিয়েছিলেন জাকির। নিমতিতা থেকে তার তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস ধরার কথা ছিল। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে তিনি ২ নম্বর প্ল্যাটফরমে যান।

এ সময় জাকিরকে ঘিরে ছিলেন দলীয় কর্মী, সমর্থক ও অনুগামীরা। অনেকেই সেই সময় মোবাইলে ভিডিও করছিলেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ভিডিও আপ করছিলেন।

সেই ভিডিওতেই ধরা পড়েছে, রাজ্যের মন্ত্রীর ওপর বোমা হামলার ভয়ানক দৃশ্য। ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ি থেকে নেমে কর্মী-সমর্থক পরিবৃত হয়ে হেঁটে যাচ্ছেন জাকির।

সবাই মন্ত্রীর জয়ধ্বনীর পাশাপাশি দলীয় স্লোগান দিচ্ছেন। কিছুটা হেঁটে যাওয়ার পর আচমকাই ভিডিওতে প্রবল বিস্ফোরণ। ঘটনার আকস্মিকতা কাটতেই দেখা যায়, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রক্তাক্ত হয়ে নেতাকর্মীরা পড়ে আছেন চতুর্দিক।

গুরুতর আহত মন্ত্রী এবং অন্য নেতাকর্মীকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। পরে মন্ত্রীকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। কলকাতায় আনার সময় মন্ত্রীর অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসার জন্য অন্য তিন স্বাস্থ্যকর্মীকে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সও।

বাকি আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অর্থসূচক/এমএস