বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০০ কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিলে যুক্ত হলো এমটিবি

সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের সার্বিক বৃদ্ধি ও বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত ২ হাজার কোটি টাকার ‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে (Pre-finance Scheme) অংশ নিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ এবং চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন নিশ্চিতকরণ, পরিবেশবান্ধব শিল্প চর্চা জোরদারকরণ এবং এই খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে এই চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের (এসএমইএসপিডি) পরিচালক মোঃ জবদুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোঃ আনিছুর রহমান। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নাহিদ রহমান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড এগ্রি ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সঞ্জীব কুমার দে সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তিন বছর মেয়াদী পুনর্ভরণযোগ্য (রিভলভিং) এই তহবিলের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়ন পাবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। শর্ত সাপেক্ষে, যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সাত বছর মেয়াদী মেয়াদী ঋণ এবং সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদী চলতি মূলধন ঋণ গ্রহণ করতে পারবে।

এই অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ট্যানারি ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকরণ, কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, পরিবেশগত অনুপালন (Environmental Compliance) অবকাঠামো নির্মাণ এবং এলডব্লিউজি (LWG) সার্টিফিকেশন অর্জনে বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। এই চুক্তিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) সুলভ শর্তে অর্থায়ন সুবিধা প্রসারিত করা, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প খাতকে শক্তিশালী করা, টেকসই শিল্প চর্চা উৎসাহিত করা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.