পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের রুল

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, আজ শুনানিতে তিনি নিজেই রিটের পক্ষে অংশ নেন। এর আগে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পদ্মা সেতুসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া জনস্বার্থে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে নদীভাঙন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতুর নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। নদী থেকে আইন লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং নদীতীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।

রিটকারীর মতে, পদ্মা নদী দেশের অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা পালন জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.