যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের শেয়ারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এক দিনেই প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে। ১৯৭০-এর দশকের পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে সবচেয়ে বড় এক দিনের পতন। এতে ইন্টেলের ১০ শতাংশ মালিকানার অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিনিয়োগমূল্য কমেছে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।
তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পর আগামী প্রান্তিকের জন্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল পূর্বাভাস দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারে দুর্বল চাহিদা এবং ইসরায়েলের একটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার প্রভাবও কোম্পানিটির ব্যবসায় পড়েছে।
সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ইন্টেলের ১০ শতাংশ মালিকানা নেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে শেয়ারের দাম কমলেও বিনিয়োগটি এখনো লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবারের দরপতনে সরকারের হাতে থাকা শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। একই দিনে ইন্টেলে ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থাকা এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্যও প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কমেছে।
বৃহস্পতিবারের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে চলতি বছরে ইন্টেলের শেয়ারের দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন কাজে কেন্দ্রীয় প্রসেসরের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে শেয়ারটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে দুর্বল পূর্বাভাসের পর শুক্রবার ডি এ ডেভিডসনের বিশ্লেষকেরা ইন্টেলের শেয়ার কেনার সুপারিশ থেকে সরে এসে নিরপেক্ষ অবস্থান নেন।
এদিকে শুক্রবার ইন্টেলের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের অন্য শেয়ারেও দরপতন হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার পর অ্যামাজনের শেয়ার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নাসডাক কম্পোজিট সূচক কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ার কমেছে ৪ শতাংশ। ব্রডকমের দরপতন হয়েছে ৫ শতাংশের বেশি এবং কোয়ালকমের শেয়ার কমেছে ১১ শতাংশ। এর আগের দিন অ্যালফাবেটের শেয়ারও ১২ শতাংশের বেশি কমেছিল।
বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুফল নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বাড়ছে। রেমন্ড জেমসের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ম্যাট অরটন সিএনবিসিকে বলেন, এটিকে এখনই বড় ধরনের হিসাব-নিকাশের সময় বলা না গেলেও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের অবস্থান ও ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইন্টেল চলতি প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় ২৫ সেন্ট এবং ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ও শেয়ারপ্রতি ৪৩ সেন্ট আয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন।
কোম্পানিটির অর্থ বিভাগের প্রধান ডেভিড জিন্সনার জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারে মন্দাভাব আগামী বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চলতে পারে। মেমোরি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বাজারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ব্যক্তিগত কম্পিউটার সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে।
এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলে ইন্টেলের একটি উৎপাদন কারখানায় বিস্ফোরণে দুই কর্মী নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার কারণে কারখানাটির উৎপাদন দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে আগামী দুই প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ১০ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপ সরবরাহে এর প্রভাব পড়বে।
ইন্টেলের প্রধান নির্বাহী লিপ-বু তান কোম্পানিটির উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবসা পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নতুন কারখানায় উন্নত ১৮এ চিপের বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে নতুন চিপের জন্য এখনো বাইরের কোনো গ্রাহক পায়নি ইন্টেল। আগামী দুই প্রান্তিকে কয়েকজন গ্রাহকের নাম ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.