জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা

নারায়ণগঞ্জের সুতা আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ৬৫৯ কোটি টাকার বেশি সুতা বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলেও ভ্যাট রিটার্নে বিক্রির পরিমাণ অনেক কম দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ দপ্তর মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কমিশনারেট সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদরের টানবাজার এলাকার এস এম মালেহ রোডে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সম্প্রতি কমিশনারেটের একটি নিবারক দল সেখানে আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মজুত পণ্য ও হিসাবপত্র যাচাই করতে গিয়ে ভ্যাট-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি সেসব দলিল দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন রেজিস্টার, হিসাবের খাতা, চালান বই, গার্ড ফাইল, কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের এক্সেল কপি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিবৃতি জব্দ করা হয়। এসব নথি পর্যালোচনায় বিক্রির হিসাব ও দাখিল করা ভ্যাট রিটার্নের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে বলে কমিশনারেট জানিয়েছে।

কমিশনারেটের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির বিবরণীতে মোট ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকার সুতা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এসব বিক্রির ওপর ৫ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪২ টাকা।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাখিল করা ভ্যাট রিটার্নে প্রতিষ্ঠানটি মোট বিক্রি দেখিয়েছে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকা। একই সময়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ভ্যাটের পরিমাণ মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা।

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, প্রযোজ্য ভ্যাট থেকে জমা দেওয়া অর্থ বাদ দেওয়ার পর সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা। এ অর্থ আদায়ের পাশাপাশি প্রযোজ্য সুদ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশনারেট।

এ ছাড়া বিক্রির সময় ভ্যাট চালান ইস্যু না করা এবং প্রকৃত বিক্রির তথ্যের সঙ্গে রিটার্নে উল্লেখ করা হিসাবের অসংগতির বিষয়ও মামলার অভিযোগে উঠে এসেছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.