স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে পৌঁছেছে। এটি দেশটির স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা।
দেশটির মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কাস্তিয়া লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার শিকার দুটি ট্রেনে ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলেও জানা যাচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলে জানিয়েছে, একই গন্তব্যের দিকে যাওয়া দুটি ট্রেন একই লাইনে চলছিল। এরমধ্যে একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনকে পেছন থেকে এসে অত্যন্ত জোরে আঘাত করে। এতে ট্রেনের দুটি বগি লাইন থেকে পড়ে যায়।
এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদের হেলিকপ্টারে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর কম আহতদের আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলবাহিনী, তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর এবং আশপাশে দুটি ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদে একটি সম্মেলন বাতিল করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে তার দল।
চলতি বছর দেশটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ গ্রামের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন। ২০১৩ সালের জুলাই মাসের পর স্পেনে এমন ভয়াবহ রেল বিপর্যয় আর ঘটেনি। উত্তর-পশ্চিম স্পেনের সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলা শহরের উপকণ্ঠে একটি বাঁকের ওপর ঘটা সেই ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.