বাংলাদেশে তৈরি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ মডিউলের আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু

বাংলাদেশে তৈরি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ মডিউল এবার আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়ায় চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষক তৈরির কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, টিম ইনক্লুশন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে তৈরি মডিউলটির আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে এটি নতুন ধাপ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

‘ব্রেকিং অ্যাটিটিউডিনাল ব্যারিয়ারস: ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং ফর পারসনস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ’ শীর্ষক কর্মসূচিটি ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ সুরাবায়ার ইনস্টিটিউট টেকনোলজি সেপুলুহ নোপেম্বারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যাংকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গবেষণাভিত্তিক এই প্রশিক্ষণ মডিউলটি প্রথম বাংলাদেশে চালু হয় ২০২৫ সালের মে মাসে, প্রাইম ব্যাংকের আয়োজনে। আচরণবিজ্ঞান, ব্যাংকিং খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য আর্থিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মনোভাব, যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাসংক্রান্ত বাধা দূর করা।

ইন্দোনেশিয়ার কর্মসূচিটি যৌথভাবে বাস্তবায়নে যুক্ত ছিল প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, টিম ইনক্লুশন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, মোনাশ বিজনেস স্কুলের অপরচুনিটি টেক ল্যাব, ইনস্টিটিউট টেকনোলজি সেপুলুহ নোপেম্বার এবং পেরতুনি সুরাবায়া।

প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এম এম মাহবুব হাসান প্রশিক্ষক হিসেবে ব্যাংকিং খাতের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, টিম ইনক্লুশন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম কর্মসূচিটির নকশা প্রণয়ন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেক্ষাপটে মডিউলটির উপযোগী রূপ দেওয়া এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন।

মোনাশ ইউনিভার্সিটির মোনাশ বিজনেস স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরচুনিটি টেক ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত আবু জাফর শাহরিয়ার উদ্যোগটিতে একাডেমিক ও গবেষণাসংক্রান্ত নেতৃত্ব দেন। ইনস্টিটিউট টেকনোলজি সেপুলুহ নোপেম্বারের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ড. বের্তো মুলিয়া উইবাওয়াও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মোহামাদ রিজাল ইসকান্দার ও ড. পুতি সিনানসারি।

প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারকর্মী ইউস্তিতিয়া এম আরিফের পাশাপাশি দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী প্রশিক্ষকেরাও যুক্ত ছিলেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল পিএনএম, উপ্রিন্টিস ইন্দোনেশিয়া, কাওয়ান আয়ু, ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া এবং ব্যাংক মেগা শারিয়াহ।

প্রশিক্ষণে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন, প্রবেশগম্য যোগাযোগ, আচরণগত অনুশীলন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্মপরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনার দক্ষতা বাড়ানো।

মোনাশ ইউনিভার্সিটি কর্মসূচির মূল্যায়ন ও সনদ প্রদানের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছে। এতে অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান, প্রশিক্ষণ পরিচালনায় আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতি যাচাই করা হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূল্যায়নে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা গেছে। এর ফলে বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে মডিউলটি ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পৃক্ততায় লিড ব্যাংক মডেলের আওতায় দেশে একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষক তৈরির কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য, ন্যায্য ও অধিকারভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমকে দেখা হচ্ছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.