২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন করা অংশেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের নামফলক উন্মোচন করেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আধুনিকায়ন করা উদ্যানের বিভিন্ন অংশ, নান্দনিক জলাশয় ও নতুন গ্রন্থাগার ঘুরে দেখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে লেজার কাটিং প্রযুক্তিতে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে রাখা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
এ ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের অংশে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরের অংশে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
রাজধানীবাসীর বিনোদন ও অবসর কাটানোর সুযোগ বাড়াতে ওসমানী উদ্যানকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক পরিসরে সাজানো হয়েছে। এ প্রকল্পে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নতুন পাঁচটি জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন গাছ লাগানো এবং সবুজ দ্বীপ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্যানটিতে হাঁটার জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, আধুনিক গণশৌচাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটিতে সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের জন্য বিশেষ পথও রাখা হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.