জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় মো. সিফাত হোসেন (২৬) নিহতের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরোকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
সিফাতের বাবা কামাল হাওলাদার ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি মিরপুর মডেল থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলায় আসামি করা হয়- সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সালাউদ্দিন মাহমুদ (এস এম) জাহিদ, পুলিশের সাবেক আইজি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, জিয়াউল হক জিয়া ও মেহেদী হাসানসহ অন্যদের।
মামলার তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মিরপুর মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান। তবে অভিযোগপত্রে জিয়াউল হক জিয়া ও মেহেদী হাসানকে অব্যাহতি দেওয়ায় নারাজি দেন সিফাতের বাবা।
গত ১ সেপ্টেম্বর দেওয়া নারাজি আবেদনে কামাল হাওলাদার অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বিষয়বস্তু যথাযথভাবে আমলে না নিয়ে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেই আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। পরে আদালত শুনানির জন্য ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ এলাকায় এমএস পাওয়ারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিচ্ছিলেন হাজারো ছাত্র-জনতা। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে রাস্তা পার হয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন সিফাত। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মাথার এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে গুলি বেরিয়ে যায় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.