ইরানকে দোষারোপ করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে নজর সরাতে এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে শক্তিশালী করতে এই ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন শুরু করা হতো বলেও দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাকে নাটক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, এর উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করা, অভ্যন্তরীণ ইস্যু থেকে মানুষের নজর সরানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা উসকে দেওয়া।
গত বুধবার আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবে যাচ্ছিল ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি। একপর্যায়ে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে বিমানটি। পরে জানা যায়, বিমানের ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে সেটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন কো-পাইলট। এরপর একজন অফ ডিউটি পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান। বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু।
ইরানি প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত রোববার আমিরাতে নেতানিয়াহু অত্যন্ত গোপন সফর করেন। এর দুদিন পরই এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পরপরই নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নেতানিয়াহু এটিকে ৯/১১ হামলার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। কিন্তু ওই সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানা যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফলস ফ্ল্যাগের’ যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। অস্ট্রেলিয়াস্থ ইসরায়েলি দূতাবাস বলেছে, আগের মতোই ইহুদিদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। তারা এটিকে ইহুদি বিদ্বেষ হিসেবেও অভিহিত করেছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.