মার্কিন সামরিক বাহিনীতে শীর্ষ পদে বড় ছাঁটাই, জেনারেল ও অ্যাডমিরাল ২০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা

মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আগামী বছরের ১ জানুয়ারির মধ্যে জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের পর কংগ্রেসে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন সিনেটর এটিকে সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের ছাঁটাই বা ‘শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভার্জিনিয়ার মেরিন কোরস বেস কোয়ান্টিকোতে জুনিয়র কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন হেগসেথ।

তিনি জানান, গত বসন্তে সামরিক বাহিনীর প্রায় ৮০০টি জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদ ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কমানোর হার দ্বিগুণ করে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে।

হেগসেথের ভাষ্য, এটি সামরিক বাহিনীতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ, যা অনেক আগেই নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তার দাবি, এর মাধ্যমে নেতৃত্বের অপ্রয়োজনীয় স্তর এবং একই ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য থাকা অতিরিক্ত পদ কমবে। ফলে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামো আরও কার্যকর ও দক্ষ হবে।

হেগসেথের দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক কর্মসূচি কমানো, নারী সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালন করা স্থলযুদ্ধ ইউনিটগুলো পর্যালোচনা এবং পুরুষ সেনাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা। একই সঙ্গে ট্রান্সজেন্ডারদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। পুরুষদের জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে নতুন করে পদ কমানোর ঘোষণার পর কংগ্রেসে এর সমালোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন সিনেটর এই পদক্ষেপকে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে ব্যাপক ছাঁটাই হিসেবে দেখছেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি অভিযোগ করেছেন, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের প্রতি হেগসেথের গভীর অসন্তোষ রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। নৌবাহিনীর সাবেক যুদ্ধবিমান চালক কেলির দাবি, হেগসেথ সামরিক বাহিনীর অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের একটি প্রজন্মকে সরিয়ে দিচ্ছেন। তার মতে, এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

তবে সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির রিপাবলিকান সদস্য মাইক রাউন্ডস এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি এর উদ্দেশ্য সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের অতিরিক্ত নেতৃত্ব কমানো হয়, তাহলে এর কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। তবে সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দুই ডজনের বেশি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে অথবা অবসরে যেতে বাধ্য করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সিকিউ ব্রাউন, নৌবাহিনীর প্রধান লিসা ফ্রাঞ্চেত্তি এবং ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ভাইস অ্যাডমিরাল শোশানা চ্যাটফিল্ড।

এসব কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচির প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আগে আলোচনায় এসেছিল।

মার্কিন আইনে সামরিক বাহিনীর জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পর্যায়ের পদের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে কোনো পদে নতুন কর্মকর্তার মনোনয়ন কংগ্রেসে পাঠানো না হলে পদটি খালি রাখা সম্ভব।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.