দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী, বাগদাদে নতুন যুগের সূচনা

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘ উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিতে ইরাকজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এ উপলক্ষে চার দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

মঙ্গলবার ইরাকে অবস্থানরত শেষ মার্কিন সেনারাও দেশটি ছেড়ে যান। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে ‘নতুন দিনের’ সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। তবে মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি নাগরিক।

আলজাজিরাকে দেওয়া তথ্যে ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। বিদেশি সেনাদের অনুপস্থিতিতেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরাকি বাহিনী সক্ষম বলেও দাবি করেন তিনি।

২০২৪ সালে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল। সে সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। পরে গত বছর তাদের বেশির ভাগই প্রত্যাহার করা হয়। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কিছু সেনা অবশিষ্ট ছিল, যারা সর্বশেষ দেশটি ছাড়লেন।

মার্কিন বাহিনীর বিদায়ে ইরাকের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি না থাকায় এসব গোষ্ঠী আরও সক্রিয় ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাক বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হলো এবং দেশের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক এখনো প্রস্তুত নয়। তার মতে, মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক প্রস্থানে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা ইরাকিদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি মনে করেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরানে প্রভাব বিস্তারের বিপরীতে ভারসাম্য তৈরিতে সহায়ক একটি সামরিক উপস্থিতি ইরাক থেকে সরে গেল। ফলে কৌশলগতভাবে তেহরানই এর সুবিধা পেতে পারে।

দুই দশকের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসানে ইরাকের একদিকে যেমন সার্বভৌমত্বের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.