নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালত প্রশাসনের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে নীতিটির বৈধতা নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে মূল শুনানি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে ফেডারেল জেলা জজ ব্রায়ান মারফি তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে প্রথম সার্কিট আপিল আদালতও সেই রায়ের বেশিরভাগ অংশ বহাল রাখে। এর পরই ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করে।
২০২৫ সালে চালু হওয়া এই নীতির আওতায় যেসব অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাদের অন্য দেশে পাঠানো হচ্ছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে অন্তত ২৮টি তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশকে মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।
তবে এই নীতির বিরুদ্ধে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে অনেককে পর্যাপ্ত নোটিশ বা সেখানে নির্যাতন ও নিপীড়নের আশঙ্কা জানানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, কিছু অভিবাসী তৃতীয় দেশে যাওয়ার পর আটক, নিখোঁজ হওয়া, নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন নীতিটিকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের একাধিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞও এর আগে তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয় এমন ব্যক্তিদের অন্য দেশে পাঠালে নির্যাতন ও নিপীড়নের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মঙ্গলবারের আদেশের ফলে আপাতত তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এটি চূড়ান্ত রায় নয়। আগামী ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির বৈধতা নিয়ে মূল শুনানি করবে; এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা রয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.