এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৯৯ জনই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনের বাড়ি পটিয়া উপজেলায়। অর্থাৎ মোট নিয়োগের প্রায় ৪৮ শতাংশই এসেছে একটি উপজেলা থেকে।
প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত এস আলমের পটিয়ার বাড়ি ও চট্টগ্রামের আছদগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে রাখা বিশেষ বাক্সে সংগ্রহ করা হতো। পরে বাছাই করা প্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৬ ধাপে এভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন পদেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৯ সালের ২৪তম প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের নিয়োগেও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ হলেও চট্টগ্রামের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৩৭৩ জনকে পরীক্ষার আওতায় আনা হলেও অংশ নেন ৪০২ জন। সবাই উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তাকে পরে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২৬১ জনকে মূল্যায়নের বাইরে রেখে চাকরিতে বহাল রাখা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রকৃত অবস্থা জানতে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.