গ্রেসি ম্যানশনে ৪৫ বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট, মামদানিকে ‘দারুণ মেয়র’ হওয়ার শুভকামনা ট্রাম্পের

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘দারুণ মেয়র’ হওয়ার শুভকামনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পর সোমবার নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে দুজনের প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকের পর এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিউইয়র্কের জন্য ভালো কিছু চান এবং মামদানি যেন সফল মেয়র হন, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। এর আগে তিনি গ্রেসি ম্যানশনে বিভিন্ন মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন এবং মামদানিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি যেন একজন ভালো মেয়র হতে পারেন।

মামদানি জানান, তাঁদের আলোচনায় নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আবাসন, অভিবাসন ও শহরের অর্থনীতি নিয়ে বিস্তৃতভাবে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নিউইয়র্কবাসীর জন্য কাজ করতে যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত।

বৈঠকে কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে বড় আকারের আবাসন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ও অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। দুই পক্ষই নিউইয়র্কে আবাসন বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকের সময় হোয়াইট হাউসে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মামদানি জানান, তিনি সব গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পক্ষে। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে রসিকতা করে বলেন, তাঁকে বয়কট করার কথা বলা হলেও সাংবাদিকেরা শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুষ্ঠান কাভার করছেন।

গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্পের এই সফরও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনে কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটি কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সফর। এর আগে ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানে তৎকালীন মেয়র এড কোচের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

মামদানি জানান, নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে কাজ করতে পারেন—এমন যে কারও সঙ্গে তিনি সহযোগিতা করতে চান। অভিবাসী নিউইয়র্কবাসী, বিশেষ করে হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শহরের অর্থনীতিতে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগেও একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। দুজনের নীতিগত অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকাশ্য বক্তব্য ও আচরণে সহযোগিতার বার্তাই উঠে এসেছে।

মামদানি ৩৪ বছর বয়সী নিউইয়র্কের মেয়র এবং শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র। তিনি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। তাঁদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিয়ে গত কয়েক মাসে প্রকাশ্যে তীব্র বক্তব্যও এসেছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এর আগে নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবনে তাঁর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.