জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে রাজি ট্রাম্প

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠকে বসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফক্স নিউজের প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা যখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে, তখন ট্রাম্পের এ বক্তব্য সামনে এলো। তবে একই সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ ধরনের বৈঠকের জন্য সম্ভবত সময় বের করতে পারবেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের সামনে তিনটি পথ রয়েছে—বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। অধিবেশনে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা অনুমোদন করেছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও ইরানি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এরপর পাল্টাপাল্টি হামলা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ দেখা গেলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। বর্তমানে বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অবস্থান নেওয়ার পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথটিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্য এই জলপথ দিয়ে চলাচল করত। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা এখনো যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক মাত্রায় ফেরেনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার শনিবার জানান, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও পণ্য পরিবহন ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তার দাবি, প্রণালির প্রধান নৌপথ থেকে মাইন সরানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে জাহাজ চলাচলে গতি ফিরছে।

তবে সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, এই প্রবাহ এখনো যুদ্ধের আগের অবস্থার তুলনায় অনেক কম। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে তেহরানের কিছু শর্ত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সময়ে ইরান আলোচনায় ফেরার বিষয়ে নিজেদের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের সম্ভাব্য বৈঠক হলে হরমুজ প্রণালি, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত, পরমাণু কর্মসূচি এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতার সম্ভাবনাই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এমন বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.