স্ত্রীসহ এমপি গাজী নজরুলকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে সাতদিনের রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে ইতোমধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছি।

এর আগে গতকাল(২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কি না, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, শেরে বাংলা নগর থানায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শেরে বাংলা নগর থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.