কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থী অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির কাছে জবানবন্দি দেন তারা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬), কামরুল হাসান (১৫) এবং মো. সিয়ামকে (১৫) রোববার বিকেলে আদালতে তোলা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তুহিন, ফাহাদ এবং কামরুল। গ্রেপ্তার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি।
আদালত পরিদর্শক সাদেকুর রহমান জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলি আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। রেকর্ড শেষে আদালত ৩ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার দুপুরে খাওয়ার পর বাসা থেকে একটি আইফোন নিয়ে বের হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল ছেলেটি। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। পরদিন দুপুরে সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে ফাহাদ ও কামরুলও লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অপ্রতিমের আইফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল ছাড়ে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.