জাপানে প্রথমবার লাখ ছাড়াল শতবর্ষীর সংখ্যা

জনসংখ্যা কমার ধারাবাহিকতার মধ্যেও জাপানে বাড়ছে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। এক বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার। এর মধ্য দিয়ে টানা ৫৬ বছর দেশটিতে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বাড়ল।

শতবর্ষীদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। মোট শতবর্ষীর ৮৮ শতাংশ বা ৯৪ হাজার ২৯৮ জন নারী। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো বলেছেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাপন করছেন—এটি আনন্দের বিষয়।

দীর্ঘায়ুর দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি জাপান। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির মানুষের গড় আয়ু ছিল ৮৪ বছর। বিজ্ঞানীদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা জাপানিদের দীর্ঘায়ুর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি জীবনে আনন্দ ও অর্থ খোঁজার ‘ইকিগাই’ দর্শনও দেশটির মানুষের জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাপানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের কয়েকজনও বসবাস করছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কিয়োটোর ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো এবং কুমামোতোর ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

তবে মানুষের গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি বয়স্ক জনসংখ্যার চাপও বাড়ছে। বয়স্কদের স্বাস্থ্য ও সেবা ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে কমছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা। প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় সামগ্রিক জনসংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে কমছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.