ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫৫

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে। আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরাও সেখানে কর্মসূচি পালন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।

গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রথমে তাঁদের কর্মসূচিতে হামলা চালান। সংগঠনটির দাবি, এতে সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের অভিযোগ, ব্যাংককে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই ব্যক্তিরা অবস্থান নিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, গ্রাহক ফোরামের সদস্যরাই তাঁদের ওপর প্রথমে হামলা করেছেন। তাঁদের পক্ষের শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান করছিলেন। কর্মসূচিস্থলে যাওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, আহত ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার দাবি

সংঘর্ষের পর সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের কথিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। কর্মসূচি শুরুর পর আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফোরামের দাবি, হামলায় সংগঠনটির সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ব্যাংকের প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আমানত সুরক্ষার লক্ষ্যে সাত দফা দাবি নিয়ে তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলায় এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ও পরে চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজনও জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের সমর্থনে সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

চাকরিচ্যুতদের পাওনা পরিশোধের দাবি

গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনকে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের পাওনাও পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, সকালের সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে বর্তমানে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অবস্থানকারীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.