হরমুজের বিকল্প নৌপথ নিয়ে বৈঠক স্থগিত করল ওমান

হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ চালুর পরিকল্পনা নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছে ওমান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সালালাহ শহরে বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাত্র এক দিন আগে ইরানের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয় বাহরাইন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায় ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণে কার্যকর সমঝোতার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতেই বৈঠকটি অন্য তারিখে আয়োজন করা হবে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ঐকমত্যের স্বার্থে সালালাহর নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য সহায়ক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও জানান তিনি।

তার প্রকাশিত বার্তার সঙ্গে বাহরাইন, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের পতাকা ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এসব দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের নতুন তারিখ বা স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

এর আগের দিন শনিবার বাহরাইন জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আগে তেহরানের সঙ্গে কোনো যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবে না তারা। ফলে ওমানের উদ্যোগে প্রস্তাবিত বৈঠকটি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, ওমানের আয়োজনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তেহরান অংশ নেবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলবর্তী আটটি দেশের প্রতিনিধিদেরও এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে হরমুজ প্রণালির নতুন নৌপথ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নৌপথের বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এতে নৌপথের মানচিত্র ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ বিবৃতিও রয়েছে।

তবে আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওমানের সঙ্গে এই চুক্তির অর্থ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া নয়।

ইরান ও বাহরাইনের মধ্যে টানাপোড়েনের পেছনে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময় বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসা বিমানঘাঁটিও রয়েছে। তেহরানের দাবি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্য হয়। পরে জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ সই করে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

এরপর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে সামরিক হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে ওয়াশিংটনের মিত্র আরব দেশগুলোর কয়েকটি স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এই ধারাবাহিক উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজের বিকল্প নৌপথ নিয়ে আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.