বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য এখন সুনামের সঙ্গে বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে। আগামী দিনে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে তিনি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং রিমস যৌথভাবে প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে এগিয়ে নিতে বাপার বড় ভূমিকা রয়েছে। এ মেলা শুধু বাংলাদেশের পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়, বরং এ খাতের সক্ষমতা ও নতুন সম্ভাবনার পথও দেখাচ্ছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়তা করবে এবং দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এখন দেশের খাদ্যশিল্পের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের কৃষকরা প্রচুর খাদ্য উৎপাদন করছেন। এসব পণ্য আরও ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করে শুধু দেশের চাহিদা পূরণ নয়, পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। শুধু বেশি বেশি উৎপাদন নয়, ভালো ও নিরাপদ পণ্যও উৎপাদন করতে হবে, যাতে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পণ্য আরও সমাদৃত হয়।
এবারের প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে। তিন দিনে ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম, এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, বাপার সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান, কোষাধ্যক্ষ মিনহাজ আহমেদ এবং বাপা, এক্সপো আয়োজক কমিটি ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রতিনিধিরা।
আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, মেশিন ভিশন ও স্মার্ট ফ্যাক্টরি প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান নিশ্চিত এবং অপচয় কমাতে সহায়তা করবে।’
তিনি বলেন, ‘বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একই ছাদের নিচে আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, উপকরণ, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং শিল্পবিষয়ক নতুন ধারণার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন ও লজিস্টিকস পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কার্যক্রম গড়ে তুলতে এ প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, ‘কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রদর্শনী দেশীয় উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তি ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সংযুক্ত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে বাপা কাজ করে যাচ্ছে।’
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন এবং লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশা এবারের প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তিন দিনের আয়োজনে আঞ্চলিক সম্মেলন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে শতাধিক বিশেষজ্ঞ বক্তা ও শিল্পনেতা অংশ নেবেন। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’। এতে ফাংশনাল ফুড ও বেভারেজ, নিউট্রাসিউটিক্যালস, বিকল্প প্রোটিন, উদ্ভিদভিত্তিক ফর্মুলেশন এবং টেকসই খাদ্য উপকরণ তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রদর্শনীর অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সেশন স্টেজ, এফপি গুরমে, ড্রিংকস্ফিয়ার, গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি ফোরাম এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ভিলেজ।
প্রদর্শনীটি ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, দর্শনার্থী নিবন্ধন এবং বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ফুডপ্রো ডটকম ডটবিডি ওয়েবসাইটে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.