পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মঙ্গলবার ভোরে আবহা, খামিশ মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় চালানো এসব হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, হামলাগুলোতে বেশ কয়েকটি বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সৌদি আরব এসব হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এসব হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হুথিদের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজেম এলাকায় একটি কারাগারে বিমান হামলা হয়। হুথিদের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চালানো ওই হামলায় শিশু-সহ সাতজন নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। তবে হামলার দায় সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এরপরই সৌদি আরবের একাধিক শহরে হামলা চালানোর ঘটনা সামনে আসে। সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র হামলার জবাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারের বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় হুথিরা। এরপর ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.